পুলিশকে ‘খয়ের খাঁ’ ও ‘গায়েবি তথ্যের কারখানা’ বললেন রিজভী
-
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভী
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশকে ‘খয়ের খাঁ’ ও ‘গায়েবি তথ্যের কারখানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আজ (বুধবার) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘খয়ের খাঁ’ পুলিশ এখন আওয়ামী লীগের জন্য একটা বড় আশীর্বাদ। শাসকগোষ্ঠীর একনিষ্ঠ অনুগত পুলিশ দেশজুড়ে গ্রেপ্তার আর মামলার জাল বিছিয়ে বিরোধী কণ্ঠস্বর নীরব রাখতে চাইছে। বর্তমানে দেশজুড়ে গোরস্তানের নীরবতা আর কবরের ভেতরের অন্ধকারের শান্তিতে ক্ষমতাসীনরা উৎফুল্ল, উল্লসিত।
রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় নতুন করে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতার নামে সহিংসতার মামলার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘পুলিশ বলেছে, মগবাজারে ঘটনা ঘটেছে, অথচ সাংবাদিকরা সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, ওই এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর বা ককটেল বিস্ফোরণের কোনো তথ্য-প্রমাণ তাঁরা পাননি।’
‘এইচ টি ইমামের বক্তব্য ভোটবিহীন নির্বাচনের পূর্বাভাস’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ২০১৮ সালে এসে বিএনপির ভোট ৩০ শতাংশ আর আওয়ামী লীগের ভোট ৪২ শতাংশ হয়েছে। দেশের এবং জনগণের উন্নয়ন করার কারণে আওয়ামী লীগের ভোট বেড়েছে। এ বিষয়ে সমীক্ষা আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এইচ টি ইমামের এই পরিসংখ্যানকে ‘উদ্ভট’ বলে আখ্যায়িত করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এহেন অলৌকিক পরিসংখ্যান এইচ টি ইমাম সাহেবের মাথা থেকে আসাটা যৌক্তিক এই কারণে যে, খন্দকার মোশতাকের সহযোগী হিসেবে কাজ করার জন্য বিব্রতকর অবস্থা কাটাতে এখন প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতে মোসাহেবদের ম্যারাথন দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চান।’
‘খালেদাকে চিকিৎসাহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে’
এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়েও কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার সাথে তার পরিবারের লোকেরা দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজনরা ব্যথিত হয়েছেন। তাকে চিকিৎসাহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। তার বাম হাত-পা, হাতের আঙুল নড়াচড়া করতে কষ্ট হচ্ছে। ফিজিওথেরাপিও একরকম বন্ধই করে দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিস্টের ব্যবস্থা করা হয়নি।
বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘দেশনেত্রীকে গভীর স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রাখাটাই যেন সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এজন্যই দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্র কব্জা করে ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এটা আইনি লেবাসে প্রতিহিংসা পূরণের নমুনা।‘
খালেদা জিয়ার পছন্দানুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে শিগগিরই চিকিৎসার নিতে এবং অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান রিজভী।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩