'গায়েবি' মামলায় জড়ানোর অভিযোগ বিএনপি, নাকচ করলেন কাদের
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i64759-'গায়েবি'_মামলায়_জড়ানোর_অভিযোগ_বিএনপি_নাকচ_করলেন_কাদের
বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপি মামলার জালে আটকে গেছে। প্রতিদিনই মামলার সংখ্যা বাড়ছে। তাদের বিরুদ্ধে মূলত অভিযোগ পুলিশি কাজে বাধা, নাশকতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং গোপন বৈঠক। এর মধ্যে নতুন সংযোজন হয়েছে 'গায়েবি' মামলা। ঘটনা ছাড়া মামলা এবং মৃত কিংবা ঘটনাস্থলে  অনুপস্থিত ব্যক্তিদের এরকম মামলায় জড়িত করার অনেকগুলো ঘটনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
অক্টোবর ০৩, ২০১৮ ১৭:০৫ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপি মামলার জালে আটকে গেছে। প্রতিদিনই মামলার সংখ্যা বাড়ছে। তাদের বিরুদ্ধে মূলত অভিযোগ পুলিশি কাজে বাধা, নাশকতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং গোপন বৈঠক। এর মধ্যে নতুন সংযোজন হয়েছে 'গায়েবি' মামলা। ঘটনা ছাড়া মামলা এবং মৃত কিংবা ঘটনাস্থলে  অনুপস্থিত ব্যক্তিদের এরকম মামলায় জড়িত করার অনেকগুলো ঘটনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি’র সাংঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স রেডিও তেহরানকে বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ১০ বছরে বিএনপির প্রায় ২৫ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ৯৫ হাজারের ও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরেই সোয়া চার হাজার মামলায় সাড়ে তিন লাখ আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ৮ হাজার ৪৮০ জনের। বাকিরা অজ্ঞাতনামা।

তিনি জানান, দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ের কর্মী পর্যন্ত মামলার আসামী হয়ে সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন এমনকি প্রতি কার্যদিবসেই আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। এসব মামলাকে ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি।

বিএনপি বলছে, নির্বাচন ও আন্দোলনকে সামনে রেখেই এসব ‘গায়েবি’ মামলায় নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে তাকে ‘মিথ্যা মামলায়' কারাগারে রাখা হয়েছে। সিনিয়র নেতারা যেন নির্বাচনের প্রস্তুতি বাদ দিয়ে আদালতে ব্যস্ত সময় কাটান, সেজন্য তাদের নামে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

কিন্তু সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, পুলিশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করছে। কোনো রাজনৈতিক হয়রানি হচ্ছে না।

কুমিল্লার মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর

এদিকে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে আগুন দিয়ে আটজন হত্যা মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।আজ (বুধবার) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ নম্বর আমলি আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক বিপ্লব কুমার দেবনাথ নামঞ্জুরের আদেশটি দেন।

মামলা নিয়ে ডাটাবেজ তৈরি করছে বিএনপি

ওদিকে, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে  দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গত ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে একটি ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংগ্রহীত তথ্য অনুযায়ী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৪টি মামলা রুজু হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে ঝুলছে  ৩৬টি মামলা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে রয়েছে ১০৬টি। 

মামলার সংখ্যা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, সংগঠনেরর অপেক্ষাকৃত তরুণ ও সক্রিয় নেতাদের বিরুদ্বেই বেশী মামলা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-যুবদলের  সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে ২২৭টি,  হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে ৪৫৩টি, অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বিরুদ্ধে ১৮৭টি, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের বিরুদ্ধে ১৫৮টি, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে ১৪৭টি, ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর শাখার সভাপতি এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে ১৩৬টি, বরকত উল্লাহ বুলুর বিরুদ্ধে ১২৯টি, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের বিরুদ্ধে ১২৭টি এবং ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানের বিরুদ্ধে ১০৬টি  মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তাছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে ১১টি, তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৩টি, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে ২০টি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে ৫৪টি, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ৮৪টি, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ৬৭টি, ড. মঈন খানের বিরুদ্ধে দুটি, নজরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ১২টি এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা আছে।

এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল-নোমানের বিরুদ্ধে ১৩টি, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে ১৮টি, মেজর (অব.) হাফিজের বিরুদ্ধে ১৪টি, মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে ৩১টি, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে ৮৬টি, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনের বিরুদ্ধে ৪৮টি, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে ১৪৭টি, খায়রুল কবির খোকনের বিরুদ্ধে ৫১টি, আসলাম চৌধুরী ও হারুন-অর রশীদের বিরুদ্ধে ৬৭টি, সাংগঠনিক সম্পাদক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এহছানুলহক মিলনের বিরুদ্ধে ৫৬টি, সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে ২৭টি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ৪৭টি মামলা রয়েছে।

মামলার রিট শুনানির অপেক্ষায়

এদিকে, গত সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীসহ সারা দেশে ৩ লাখেরও বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪ হাজার মামলা সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ওই রিট আবেদনে এসব মামলাকে ‘গায়েবি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রিট আবেদনটি দাখিলের পর ২৪ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করাহয়। তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন শুনানি হয়নি। আগামী সপ্তাহে এ রিটআবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মাসুদ রানা।

আগাম জামিনের চেষ্টায় নেতা-কর্মীরা 

সারা দেশের বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আসামি হয়েছেন বিএনপি পন্থি আইনজীবীরাও। গ্রেফতার এড়াতে আগাম জামিন নিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের এসব আইনজীবী। পাশাপাশি বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাও আগাম জামিনের জন্য সুপ্রিম কোর্টে ভিড় জমাচ্ছেন।

এর মধ্যে সরকারি কাজ ও পুলিশকে বাধা দেওয়া সংক্রান্ত নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন থানায় করা মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া গতকাল হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন ও আদাবর থানায় দায়ের করা আট মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ সাতজনের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। জামিন প্রাপ্ত বিএনপির অন্যান্য নেতারা হলেন, অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান, অ্যাডভোকেট ফেরদৌস ওয়াহিদা ও অ্যাডভোকেট তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ।

তার আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ ছয় আইনজীবী পল্টন, খিলগাঁও, মতিঝিলসহ বিভিন্ন থানায় দায়ের করা নাশকতার মামলায় আগাম জামিন নিয়েছেন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩