নির্বাচনের আগে গ্রেনেড হামলা মামলার রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: রিজভী
-
রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতেই আইনের কূটকৌশল নিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে।
আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী আহমেদ। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, হামলার সোয়া ৩ বছর পর শেখ হাসিনা একেক সময় একেক কথা বলেছেন। খালেদা জিয়া ঘটনার পর শেখ হাসিনাকে দেখতে যেতে সুধাসদনের কোনো সাড়া মেলেনি যা তৎকালীন বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এই মামলায় তারেক রহমানের নাম না থাকলেও আইনের কূটকৌশল নিয়ে সম্পূরক চার্জশিটে তার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রিজভী আহমেদ বলেন, জনগণ মনে করে, বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট ও আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টির জন্যই গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল। আর শেখ হাসিনার আমলে বিচারের রায় কী হবে তা জনগণ ভালোভাবেই জানে। নির্দোষ খালেদা জিয়াকে কূটকৌশল করে কীভাবে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে তাও জনগণ জানে।
পাইকারি হারে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, মধ্যযুগের ডাইনি শিকারের মতো করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরা হচ্ছে। জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রধান কাণ্ডারি খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি। কয়েক মাস পরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। অধিকারহারা জনগণ জোরালো আন্দোলনের জন্য অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে। এ সময়, দেশের জনগণ আর একতরফা নির্বাচন হতে দেবে না বলেও জানান রিজভী আহমেদ।
অবৈধ সরকারকে অপসারণ করা হবে: মওদুদ
এদিকে, সরকার বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে নানাভাবে চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তবে, সব ষড়যন্ত্র নস্যাত করে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে এবং এই অবৈধ সরকারকে অপসারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন।
যথাসময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দেয়া হবে জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, যতই গলাবাজি করুন, এক মিনিটের মধ্যেই স্বৈরাচারী সরকার আমাদের দাবি মানতে বাধ্য হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হবে। বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করবেন, সেটা আর এ দেশে হবে না।
আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, সংবিধানের দোহাই দেন কিন্তু সংবিধানে তো নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো কথা বলা নেই। পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও প্রশাসনসহ সবকিছু আপনার অধীনে থাকবে, আর নাম দেবেন নির্বাচনকালীন সরকার; এটা প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৫