ইয়েমেন সীমান্তে বাংলাদেশি সেনা মোতায়েনের চুক্তি নিয়ে মেননের ক্ষোভ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i68118-ইয়েমেন_সীমান্তে_বাংলাদেশি_সেনা_মোতায়েনের_চুক্তি_নিয়ে_মেননের_ক্ষোভ
ইয়েমেন সীমান্তে বাংলাদেশের সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও বিরোধী দল জাতীয় পর্টির সদস্য ফখরুল ইমাম। একইসঙ্গে তারা ওই চুক্তিতে সংবিধান লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা পরীক্ষা করার দাবিসহ বিষয়টি নিয়ে সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি ও স্পিকারের রুলিং দাবি করেছেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯ ২০:২৮ Asia/Dhaka
  • রাশেদ খান মেনন (ফাইল ফটো)
    রাশেদ খান মেনন (ফাইল ফটো)

ইয়েমেন সীমান্তে বাংলাদেশের সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও বিরোধী দল জাতীয় পর্টির সদস্য ফখরুল ইমাম। একইসঙ্গে তারা ওই চুক্তিতে সংবিধান লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা পরীক্ষা করার দাবিসহ বিষয়টি নিয়ে সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি ও স্পিকারের রুলিং দাবি করেছেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, "বিবিসি গত পরশু সংবাদ দিয়েছে যে, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশ ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করছে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করে নাই। ওই সমঝোতা চুক্তির আওতায় ইয়েমেন সীমান্তে বাংলাদেশের ১৮০০ সেনা নিয়োগ দেওয়ার কথা। সৌদি আরবে ইসলামী সেনাবাহিনী কাউন্টার টেরোরিজম কমিশন-আইএমসিটিসি বাংলাদেশ থেকে একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ ৪ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগের জন্য নামও দেওয়া হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ।"

তিনি বলেন, "২০১৫ সালে যখন সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী জোটে বাংলাদেশ নাম লিখিয়েছিল তখনই আমরা বলেছিলাম- আমাদের জন্য কতটা ইতিবাচক হবে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ জরুরি, খটকা ছিল তখনই। সেই সময় সৌদি আরব যেটাকে ৩৪ জাতি সামরিক জোট বলেছিল, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইনিয়ে বিনিয়ে তখন বলেছিল- এটা একটি সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বিত উদ্যোগ। সেই সময় জনগণের উদ্বেগ এবং আশঙ্কাকে নিরসন করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, সৌদি আরবে যে দুটি মসজিদ রয়েছে মক্কা এবং মদিনা শরীফ- তা যদি আক্রমণের মুখে পড়ে তখনই কেবল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাঠাবে। এর বাইরে কখনো কোনো সেনাবাহিনী পাঠাবে না।" 

তিনি বলেন, "আমরা জেনেছি এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পর্যায়ে। এর মধ্যদিয়ে আমাদের সংবিধানের ২৫ বিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না সেটা অবশ্যই পরীক্ষা করা প্রয়োজন। দুই দিক দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। প্রথমটি হচ্ছে— এই সেনাবাহিনী মোতায়েন জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা। দ্বিতীয়ত, আমাদের সেনাবাহিনীর বিদেশে উপস্থিতিতে আমাদের রাজনৈতিক ভাবমুর্তি কী হবে। আমরা জানি ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্ব যে সমঝোতা এবং যুক্তরাষ্ট্র মিলে সেখানে প্রতিমুহূর্তে আক্রমণ চালাচ্ছে 'বিদ্রোহীদের' দমন করতে। আমরা জানি, আরব দেশের বসন্তের বিকৃত প্রয়োগ ঘটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখানে কী ধরনের পরিণতি সৃষ্টি করেছিল এবং সৌদি আরব সেখানে কোন সুবিধা নিতে যাচ্ছে।"

মেনন আরো বলেন, "জাতিসংঘের মহাসচিব স্পষ্ট করে বলেছেন— ইয়েমেনের ঘটনা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানবিক বিপর্যয়। সেখানে আমাদের সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়ে সীমান্তে মাইন অপসারণ করবে। আমাদের সেনাবাহিনী একদিন কুয়েতে মাইন অপসারণ করে সুনাম অর্জন করেছিল ইরাকি আগ্রসনের বিরুদ্ধে। তারা কেন মাইন অপসারণের নামে নিজেদের জীবন দেবে? যেটা সংবিধান অনুমোদন করে না।"

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি ও স্পিকারের রুলিং চেয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, "যখন ইয়েমেন সীমান্তে আমাদের সেনাবাহিনী থাকবে খুব স্বভাবিকভাবেই একটি বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি হবে। আমাদের সংবিধানে স্পষ্ট করে বলেছে— কোনো বিরোধপূর্ণ ঘটনায় আমাদের সেনাবাহিনী বা বাংলাদেশ অংশ নেবে না। আমরা এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো বিবৃতি পাইনি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে একটি বিবৃতি দেবেন এবং আপনিও স্পিকার হিসেবে বিষয়টি সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, আপনার কাছ থেকে রুলিং আশা করছি।"

মেননের বক্তব্যের পর ফখরুল ইমাম বলেন, “আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত। সংসদ রাষ্ট্রের একটা সাংবিধানিক অঙ্গ। এই যে চুক্তিটা ১৪৫ (ক) বলা আছে, কোনো বৈদেশিক চুক্তি হয় তাহলে সেটা রাস্ট্রপতির কাছে জমা দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি সেটা সংসদে দেবেন। এটা আলোচনা করলে কী অসুবিধা ছিল? এটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করলে কী অসুবিধা হতো? আমাদের না জানিয়ে সংসদকে পাশ কাটিয়ে এটা কেন করা হচ্ছে? যদি সংসদের অধিবেশন না চলতো তাহলে এক কথা। সংসদকে পাশ কাটিয়ে, সংসদকে মূল্যহীন ভেবে সরকারের এই চুক্তি করা কতটুকু যুক্তযুক্ত হয়েছে সেটা আপনার ওপর বিবেচনার জন্য ছেড়ে দিলাম।”

এদিকে আজই রিয়াদে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষে এমওইউতে সই করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান। সৌদি আরবের পক্ষে সই করেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ লেফটেনেন্ট জেনারেল মুতলাক বিন সালিম আল উজাইমিয়া। এমওইউ সইয়ের সময় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ, দূতাবাসের মিশন উপ-প্রধান ড. নজরুল ইসলাম ও ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৪

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন