রংপুরে মহাসড়কে ধান ছিটিয়ে বিক্ষোভ, খাদ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করলেন হুইপ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i70432-রংপুরে_মহাসড়কে_ধান_ছিটিয়ে_বিক্ষোভ_খাদ্যমন্ত্রীর_সমালোচনা_করলেন_হুইপ
কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে আজ রংপুরে মহাসড়কে ধান ছিটিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে করেছে কৃষক সংগ্রাম পরিষদ। আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রংপুর নগরের মাহীগঞ্জ সাতমাথা এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় কৃষক সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে মহাসড়কে ধান ছিটিয়ে সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
মে ১৬, ২০১৯ ১২:১৮ Asia/Dhaka
  • রংপুরে মহাসড়কে ধান ছিটিয়ে বিক্ষোভ, খাদ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করলেন হুইপ

কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে আজ রংপুরে মহাসড়কে ধান ছিটিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে করেছে কৃষক সংগ্রাম পরিষদ। আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রংপুর নগরের মাহীগঞ্জ সাতমাথা এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় কৃষক সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে মহাসড়কে ধান ছিটিয়ে সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রতি বিঘায় ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। আর বিঘাপ্রতি উৎপাদিত ধান বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ৬-৭ হাজার টাকা। ফলে  প্রতি বিঘায় ধান উৎপাদনে কৃষকের লোকসান দাঁড়াচ্ছে প্রায় তিন হাজার টাকা। তাছাড়া,  শ্রমিকের চড়া মজুরির কারণে জমি থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক। ধার-দেনা করে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলতে হচ্ছে। তারপর আবার লোকসানের বোঝা।

এর আগে নিজের ক্ষেতে পাকা ধানে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের তিনজন কৃষক।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বানকিনা গ্রামের কৃষক আবদুল মালেক সিকদার গত ১২ মে তার ক্ষেতের পাকা ধানে আগুন দেওয়ার পর ছবিসহ খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় ওঠে। গতকাল বুধবার দুপুরে জেলার কয়েকটি কলেজের ১৫ জন শিক্ষার্থী গিয়ে কৃষকের খেতের ধান কেটে দেন।

গত ১২ মে কালিহাতী উপজেলায় বানকিনা গ্রামের কৃষক আবদুল মালেক সিকদার তার ধান ক্ষেতে আগুন দেন

ধানে আগুন দেওয়ার ঘটনা পরিকল্পিত: খাদ্যমন্ত্রী

তবে, টাঙ্গাইলের এক কৃষক নিজের জমিতে ধানে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে পরিকল্পিত মনে করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, ঘটনাটি এমনই পরিকল্পিত যে সকাল থেকে সেখানে সাংবাদিকেরা গিয়ে বসে ছিলেন। ধানের দাম কম, এ জন্য একজন কৃষক হিসেবে সেই দুঃখ আমারও আছে। কিন্তু তাই বলে কৃষক তাঁর উৎপাদিত ধানে আগুন দেবেন, এটা হতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গতকাল সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া সদর ও আদমদীঘির সান্তাহারে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনকালে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ

আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না: হুইপ

এদিকে, খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ গতকাল দুপুরে তাঁর ফেসবুক পেজে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না। আপনি, আমি কৃষকের ভোটে, কৃষকের দয়ায় সংসদে এসেছি। কৃষককে ধানের মূল্য দিতে পারবেন না, বিনয়ের সঙ্গে সম্মানিত কৃষকদের সীমাবদ্ধতার কথা অবহিত করুন।'

হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, 'একজন অসহায় কৃষকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও সহ্য করতে পারবেন না? আপনি তো সামরিক স্বৈরাচারের মন্ত্রী নন। আপনাকে স্মরণ রাখতে হবে, আপনি আমলা বা ব্যবসায়ী কোটার মন্ত্রী নন। তৃণমূল থেকে কাদামাটি গায়ে মাখা রাজনীতিবিদ। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে ধাপে ধাপে ধান আবাদি মানুষের সহযোগিতা–সমর্থনে আজকের পর্যায়ে এসেছেন। অন্তত আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না।’#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।