বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা: হাফিজউদ্দিন খানের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেড় লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এক জরুরি সভা ডেকে ব্যাংকগুলোর এমডিদের কাছে খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। বৈঠকে খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যে সাত ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে বৈঠকটি হয়েছে- তার চারটি সরকারি ব্যাংক, এগুলো হচ্ছে সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক। বাকি তিনটি বেসরকারি ব্যাংক, সেগুলো হচ্ছে- আল-আরাফাহ, ইসলামী ও ন্যাশনাল ব্যাংক।
গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে এই বঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছন, “খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে সাত ব্যাংকের এমডিকে ডাকা হয়েছিল। তারা বলেছেন, অনেকে ঋণ পুনঃতফসিল করেও এখন কিস্তি পরিশোধ করছেন না। এ জন্য খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে।“
বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল ঘোষণা দিয়েছিলেন, খেলাপি ঋণ আর 'এক টাকাও বাড়বে না'।
সেজন্য ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিলসহ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর সে আশ্বাসে ফল মেলেনি, খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান রেডিও তেহরানকে বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ গত দশ বছর ধরে বেড়েই যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নানা সময়ে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও তাতে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।
তিনি মনে করেন, এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব জড়িত রয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক তার দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার খেলাপি ঋণের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায়, গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৩৯ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সঙ্গে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ যোগ করলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৫০ হাজার ১২২ কোটি টাকা।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৩