রেকর্ড রান তুলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছ হারল বাংলাদেশ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i71368-রেকর্ড_রান_তুলেও_অস্ট্রেলিয়ার_কাছ_হারল_বাংলাদেশ
নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে ৩৩৩ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস গড়েও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৮ রানে হেরে গেল বাংলাদেশ। এতে শেষ চারের সমীকরণ বেশ কঠিন হয়ে গেছে টাইগারদের জন্য। অন্যদিকে এই জয়ে ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠল অজিরা।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ২০, ২০১৯ ২০:২৩ Asia/Dhaka
  • রেকর্ড রান তুলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছ হারল বাংলাদেশ

নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে ৩৩৩ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস গড়েও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৮ রানে হেরে গেল বাংলাদেশ। এতে শেষ চারের সমীকরণ বেশ কঠিন হয়ে গেছে টাইগারদের জন্য। অন্যদিকে এই জয়ে ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠল অজিরা।

আজ (বৃহস্পতিবার) নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অজি দলপতি অ্যারন ফিঞ্চ। ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে অজিরা তোলে ৩৮১ রান। জবাবে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৩৩ রান তোলে বাংলাদেশ। টাইগারদের আগের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল ৩৩০ রান, সেটি এই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে

জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হতো ৩৮২ রান। অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণের সামনে এই বিশাল রান তাড়া করে জেতা ছিল বেশ কঠিন। দুর্দান্ত বাংলাদেশ এই ম্যাচটি জিততে পারেনি ঠিক, তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ভিত ভালোভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ ব্যাটিং ঝড়ে কিছু সময়ের জন্য হলেও ম্যাচটিতে জয়ের আশা জেগেছিল লাল-সবুজের দলের।

৩৮২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে তামিম-সৌম্যর ভুল বোঝাবুঝির সুযোগটা লুফে নেন অ্যারন ফিঞ্চ। অজি দলপতির সরাসরি থ্রোতে রানআউট হওয়ার আগে সৌম্য করেন ৮ বলে দুই চারে ১০ রান। দলীয় ২৩ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ১০২ রানের মাথায় বিদায় নেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। স্টইনিসের করা ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ওয়ার্নারের তালুবন্দি হওয়ার আগে সাকিব ৪১ বলে করেন ৪১ রান। তার ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারির মার।

চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ডেভিড ওয়ার্নার

দলীয় ১৪৪ রানের মাথায় বিদায় নেন ওপেনার তামিম ইকবাল। মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তামিম ৭৪ বলে ছয়টি বাউন্ডারিতে করেন ৬২ রান। এরপর জুটি গড়েন মুশফিক-লিটন। দলীয় ১৭৫ রানের মাথায় এলবির ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ১৭ বলে তিন চারে ২০ রান করা লিটন। স্কোরবোর্ডে আরও ১২৭ রান যোগ করেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। বাউন্ডারি সীমানায় ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে মাহমুদউল্লাহ ঝড়ো ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার বুকে কাঁপন ধরিয়েছিলেন। ৫০ বলে ৬৯ রান করার পথে পাঁচটি চারের সাথে তিনটি ছক্কা হাঁকান। কোল্টার নাইলের পরের বলে বোল্ড হন সাব্বির রহমান। দলীয় ৩০২ রানের মাথায় বাংলাদেশ পঞ্চম আর ষষ্ঠ উইকেট হারায়।

৪৯তম ওভারে ব্যক্তিগত ৬ রান করে বিদায় নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। শেষ ওভারের শেষ বলে ৬ রান করা মাশরাফি আউট হন। মুশফিকুর রহিম ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থাকেন। ৯৭ বলে ৯টি চার আর একটি ছক্কায় ১০২ রান করে অপরাজিত থাকেন মুশফিক।

মিচেল স্টার্ক ১০ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে তুলে নেন দুটি উইকেট। প্যাট কামিন্স ১০ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। ম্যাক্সওয়েল ৩ ওভারে ২৫ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। কোল্টার নাইল ১০ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন। মার্কাস স্টইনিস ৮ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে পান দুটি উইকেট। অ্যাডাম জাম্পা ৯ ওভারে ৬১ রান দিয়ে পান একটি উইকেট।

সেঞ্চুরির পর মুশফিকুর রহিম

এর আগে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ ‍মিলে দুর্দান্ত শুরু করে অজিরা। ২০.৫ ওভারে ১২১ রান আসে দুজনের ওপেনিং জুটি থেকে। উইকেট তুল নিতে দলের নিয়মিত সব বোলিং অস্ত্র ব্যবহার করে যখন ব্যর্থ প্রচেষ্টা টাইগার অধিনায়কের। তখনই আস্থা রাখলেন পার্ট টাইম পেস বোলার সৌম্য  সরকারের ওপর। ইনিংসের ২১তম ও নিজের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে ৫৩ রান করা অ্যারন ফিঞ্চকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে রুবেলের ক্যাচের ফাঁদে ফেলে ফেরান সৌম্য। অন্যদিকে আরেক ওপেনার ওয়ার্নার দেখে-শুনে খেলে ১১৩ বলে  তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি। ফিঞ্চের আউটের পর পরবর্তী উইকেট নেয়ার জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৩.১ ওভার। খাজা-ওয়ার্নার মিলে ১২৪ বলে তোলেন ১৫০ রান তোলেন। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন ওয়ার্নার। সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর পরবর্তী পঞ্চাশ রান ছুঁতে ব্যবহার করেন ২৬ বল। শেষ পর্যন্ত ১৪৭ বলে ১৪ চার ও ৫ ছয়ে ১৬৬ রান করে সৌম্যর দ্বিতীয় শিকার হয়ে রুবেলের তালুবন্দী হয়ে ফেরেন ওয়ার্নার।

ওয়ার্নারের ঝড় থামানোর পর, মাঠে নেমে ফের ঝড় তোলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ১০ বলে করেন ৩ ছক্কা ও দুই চারে ৩২ রান করে রান আউটের শিকার হন ম্যাক্সি। ৭২ বলে ৮৯ রান করে ওসমান খাজাও ফেরেন সৌম্যর তৃতীয় শিকার হয়ে। এরপর শেষদিকে মার্কোস স্টয়নিসের ১১ বলে ১৭ ও অ্যালেক্স কেরির অপরাজিত ৮ রানের সুবাধে ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৮১ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সৌম্য সরকার ৩টি ও মোস্তফিজুর রহমান একটি উইকেট শিকার করেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৬৬ রান করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পেয়েছেন অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। সেইসাথে চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের মালিকও এখন তিনিই। তার মোট রান এখন ৪৪৭। দ্বিতীয় স্থানে আছেন সাকিব আল হাসান।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।