ঢাকায় ডেঙ্গুতে মারা গেলেন আরও এক নারী চিকিৎসক
-
স্বামী ও তিন বছরের সন্তানের সঙ্গে ডা. তানিয়া সুলতানা
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজধানী ঢাকায় ডা. তানিয়া সুলতানা নামে এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে তিন চিকিৎসকসহ ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩ জন। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, এই সংখ্যা আট।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে এফসিপিএস পার্ট-২ এর শিক্ষার্থী ডা. তানিয়া সুলতানা শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
জানা যায়, চিকিৎসক তানিয়া ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে বুধবার প্রথমে ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই তাকে স্থানান্তর করা হয় আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে।
ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের তথ্য বিভাগের কর্মকর্তা মো. রাজিব সাহা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে তানিয়া সুলতানা মারা যান। তার মরদেহ স্বজনরা নিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি।
ডা. তানিয়া সুলতানা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৪৭তম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন। তিনি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় থাকতেন। তানিয়া সুলতানার সাড়ে তিন বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
ডা. তানিয়ার স্বামী ব্যবসায়ী আমিনুল বাহার হিমন বলেন, জ্বরের কারণে তানিয়ার এভাবে মৃত্যু হবে আমরা কখনও কল্পনা করিনি। এত অল্প বয়সে আমার বাচ্চা মা হারাতে হলো। তিনি বলেন, ছেলেটি তার মাকে পাগলের মতো খুঁজছে। তাকে বলেছি, তোমার মা বেড়াতে গেছে, আসবে। একটু পরেই আসবে। কিন্তু এভাবে কতদিন বাবুকে শান্তনা দিবো।?
এর আগে গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন হাজরা ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ডা. শাহাদাত হোসেনের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলায়। গত ৯ জুলাই পদোন্নতি পেয়ে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন। যোগদানের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মীরা।
এছাড়া, গত ৩ জুলাই রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ডা. নিগার নাহিদ দিপু নামে এক নারী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৩২ ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন ডা. নিগার। সর্বশেষ তিনি কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।