রাজধানীতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে
-
জাহিদ মালেক
বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগীর সেবায় প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন রাজধানীর সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবাকর্মীরা।
আজ দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সকলে মিলে কাজ করলে আমরা ডেঙ্গু নির্মূল করতে পারব। আমরা স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারব। আমরা তো তার ঘরে গিয়ে মশা মারতে পারব না। মশা যার ঘরের ভিতরে আছে তাকেও সচেতন হতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল তথ্যমতে, ডেঙ্গুর কারণে মারা গেছেন ১৪ জন। সেটা হয়তো দিনদিন বাড়তে পারে। মৃত্যু তো অনেক কারণেই হয়। শুধু তো ডেঙ্গুর কারণে হয় না। আমাদের হিসাব মতে ডেঙ্গুর কারণে মৃত ১৪ জন।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সকল ছুটি বাতিল
ওদিকে, ডেঙ্গু রোগ থেকে নাগরিকদের রক্ষায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে ছুটিতে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান করতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ধারণ ক্ষমতার থেকে কয়েকগুণ বেশি রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন রাজধানীর সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবাকর্মীরা। সরকারি হিসেবে না উঠলেও হাসপাতালের রিপোর্ট অনুসারে এ পর্যন্ত পাঁচজন চিকিৎসক ও একজন নার্স প্রাণ হারিয়েছেন ডেঙ্গুতে। নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাঝেও তাদের কাজ করতে হচ্ছে ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা ৮০০। হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি ১৬০০ রোগী। এর মধ্যে ডেঙ্গু নিয়েই ভর্তি ৩৬৫ জন। এখানে একজন চিকিৎসককে গড়ে প্রায় ১৬ জন রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, এডিস মশাতো আর জানে না ঈদের ছুটি আছে কী নেই। তাই আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং চিকিৎসকদের একটি বিশেষ রোস্টার করার চেষ্টা করছি।
ঢাকা মেডিকেল ও মিডফোর্ট হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর ধারণ ক্ষমতা ৭৫ জন হলেও এখন তা ২০০ ছাড়িয়েছে। সেবা কর্মীরা বলছেন, একটু পানি পান করাও ফুরসত পাচ্ছেন না তারা।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে জুলাই পর্যন্ত এ সাত মাসে ২১ হাজার ২৩৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৮৭ জন রোগী। জুলাই মাসেই ডেঙ্গুতে রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৪৩ জনে উন্নীত হবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
ইতোমধ্যে দেশের সবগুলি জেলায় ডেঙ্গু রেগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। রাজধানীর বাইরে আক্রান্তরা নিজ জেলায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের বেশিরভাগ রোগী ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে বলে চিকিংসকদের পর্যবেক্ষনে ধরা পড়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে দেশের সকল হাসপাতালে খোলা হয়েছে অস্থায়ী ডেঙ্গু কর্নার।
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩