বাংলাদেশে নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়, পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশের রাজধানীর হাজারিবাগের এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগে চারজন আসামির বিরুদ্ধে চার বছর ধরে মামলার বিচার চলছে ঢাকার একটি আদালতে। বিচার এখন শেষ পর্যায়ে। এ অবস্থায় 'নিহত' কিশোর আবু সাঈদ জীবিত অবস্থায় ফিরে এলে মামলায় আসামিদের কথিত স্বীকারোক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দেয়া পুলিশের চার্জশিট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্ট মহল। এ ঘটনায় নির্যাতন চালিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের অপরাধটিও প্রকাশ পেয়ে যায়।
পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা তৎকালীন গোয়েন্দা পুলিশের এসআই রুহুল আমিনের বিরুদ্ধেই এখন তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে, কথিত অপহরণের ও শিশু হত্যার মামলায় তৎকালীন গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা এস আই রুহুল আমিন নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, জীবিত শিশুকে হত্যার দায় স্বীকারে বাধ্য করার ঘটনাকে একটি 'ব্যতিক্রমী অনিয়ম' বলে মন্তব্য করেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত কমিশনার মো. আবদুল বাতেন।
তিনি গণমাধ্যমের কাছে বলেছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে এই ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ আছে; সেটা অস্বীকার করলে সত্যকে অস্বীকার করা হবে। তবে, এরকম অভিযোগ যে সব সময় সত্য সেটাও সত্য নয়।
নির্দোষ নাগরিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া, গায়েবী মামলা রুজু করে হয়রানি করা বা নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং ভুক্তভোগীদের পরিবার। এ অবস্থায় কিশোর আবু সাঈদের কথিত হত্য মামলা এবং তাতে চার্জশিট দাখিলের ঘটনায় এ সকল অভিযোগের একটা জলজ্যান্ত প্রমাণ পাওয়া গেল বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
ওদিকে রাজধানীতে অপর একটি মামলায় চার্জশিটভুক্ত একজন অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ীর সাথে শুধু নাম ও বাবার নামের আংশিক মিল থাকায় একজন মোটর সাইকেল মেকানিককে থানায় আটকে রেখে হয়রানি করার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে মোহামাদপুর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গতকাল প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট (শুক্রবার) বিকেলে মোহাম্মদপুর থানার আওতাভুক্ত শ্যামলী রিং রোডের একটি গলিতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ মোটরসাইকেল মেকানিক কামাল হোসেনকে মাদক মামলার আসামি উল্লেখ করে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
কামালকে থানায় নেয়ার পর পুলিশ যাচাই করে দেখে কামাল হোসেনকে ভুল আসামী সন্দেহে আটক করা হয়েছে। এ কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানাসহ ডিএমপির কোনো থানায় কোনো মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরিরও (জিডি) তথ্য পায়নি পুলিশ।
বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই শেষে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশে শুক্রবার রাতেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
থানা থেকে ছাড়া পেলেও একদিন পর রোববার (১ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদপুর থানার আরেক এএসআই কামালের গ্যারেজে এসে জানায়, মামলা থেকে খারিজ পেতে বা মামলা থেকে নাম বাদ দিতে চাইলে পুলিশকে খুশি করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে ঝামেলা পোহাতে হবে।
বিষয়টি জাজানি হবার পর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ওয়াহেদুল ইসলামকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয় ডিএমপি। ইতোমধ্যে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করে ডিসি কার্যালয়ে নিযুক্ত করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।