আশুরার তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলা: চার বছরেও শেষ হয়নি মামলার বিচার
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i73532-আশুরার_তাজিয়া_মিছিলে_বোমা_হামলা_চার_বছরেও_শেষ_হয়নি_মামলার_বিচার
রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে হোসনি দালানে ২০১৫ সালে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় বোমা হামলা মামলার বিচার চার বছরেও শেষ হয়নি। অভিযোগপত্রে ত্রুটি থাকায় গত এক বছর ধরে ঝুলে আছে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইবুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে বিচারধীন রয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ ১২:০০ Asia/Dhaka
  • আশুরার তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলা: চার বছরেও শেষ হয়নি মামলার বিচার

রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে হোসনি দালানে ২০১৫ সালে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় বোমা হামলা মামলার বিচার চার বছরেও শেষ হয়নি। অভিযোগপত্রে ত্রুটি থাকায় গত এক বছর ধরে ঝুলে আছে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইবুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে বিচারধীন রয়েছে।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আরমানের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবুল হোসেন তার জামিনের আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন। একই সঙ্গে মামলাটির সাক্ষী না আসায় পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেন আদালত। মামলার মোট সাক্ষী ৪৬ জন। এর মধ্যে এ পর্যন্ত  ১১ জন আদালতে সাক্ষ্য দিতে পেরেছেন।

মামলার আগ্রগতি বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম সঠিকভাবেই চলছিল। কিন্তু গত বছর এ মামলায় কারাগারে থাকা আসামি জাহিদ হাসানের (রানা) আইনজীবী দাবি করেন, মামলায় চার্জশিট দাখিল হওয়ার সময় তার আসামির বয়স ১৭ বছর ছিল। আইন অনুযায়ী সে শিশু হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে হতে হবে।

এ কারণে ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন। সম্প্রতি ওই সম্পূরক চার্জশিট দাখিল হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ এ বিষয়ে বলেন, এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে মারাত্মক ভুল করেছেন। একজন নাবালককে তিনি সাবালক হিসেবে উল্লেখ করে চার্জশিট দিয়েছেন। মূলত তদন্ত কর্মকর্তার ত্রুটির কারণে মামলটির বিচারকাজ এগোচ্ছে না।

তিনি বলেন, মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর তাজিয়া মিছিলের জন্য পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে হোসনি দালান ইমামবাড়ায় সমবেত হলে জামাআতুল মুজাহিদিন বোমা হামলায় দু’জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। ওই ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা করেন।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করলেও এ ঘটনায় তাদের (আইএস) কোনো যোগসূত্র নেই বলে দাবি করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক শফিউদ্দিন শেখ ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) ১০ জঙ্গির নামে চার্জশিট দাখিল করেন। এর পরের বছর ৩১ মে ১০ জঙ্গির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। ২০১৮ সালের ১৪ মে মামলাটি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়।

এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১০ আসামীর মধ্যে চারজন জামিনে আছেন। বাকি ছয় আসামি কারাগারে রয়েছেন। আসামিদের মধ্যে জাহিদ হাসান ওরফে রানা, আরমান ও কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক বিভিন্ন সময়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/এমবিএ/১০

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন