বাংলাদেশে অপুষ্টি বাড়ছে, দরকার সুষম ও নিরাপদ খাদ্য
বাংলাদেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। গত ১০ বছরে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ লাখ। দেশের সব মানুষের মৌলিক অধিকার ‘পুষ্টিকর খাদ্য’ নিশ্চিত করতে হলে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এখন সময়ের চাহিদা। খাদ্য মন্ত্রণালয়কেই এ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।
গতকাল (বুধবার) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার জাতীয় সম্মেলন ২০১৯-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, ভেজাল খাদ্যসামগ্রী প্রতি বছর বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগসহ ডায়রিয়া ও অপুষ্টির জন্য দায়ী। এক্ষেত্রে বয়স্কদের তুলনায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, যা শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ী। বেশিরভাগ ভেজাল খাদ্য কঠিন ও জটিল রোগের জন্য দায়ী বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
এ প্রসঙ্গে পুষ্টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাক্তার রওশন আরা রেডিও তেহরানকে বলেন, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের দরকার সুষম ও নিরাপদ খাদ্য। এ ব্যাপারে পরিবার পর্যায়ে যেমন সচেতনতা দরকার তেমনি রাষ্ট্রকেও দায়িত্ব নিতে হবে যাতে মানুষ বাজার, রাস্তাঘাট এবং হোটেল রেস্তোরায় অনিরাপদ বা ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করে আক্রান্ত না হয়।
গতকাল রাজধানীতে অনুষ্ঠিত খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার জাতীয় সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘নাগরিক সমাজের দায়িত্ব সরকারকে তার অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দেওয়া। আমরাও তাই খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছি। যা সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।’
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, আইনে অধিকারগুলো বর্ণিত থাকবে, অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতে যাওয়া যাবে।
আলোচনায় ড. নাজনীন আহমেদ খাদ্য সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পাশাপাশি খাদ্যের অপচয় রোধ করার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, মৌসুম ভেদে খাদ্যের সংকট দেখা দেয় এবং তখন মূল্যও বাড়ে। এটি দেখা আমাদের সবার দায়িত্ব।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।