বাংলাদেশে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট: আদালতের নির্দেশনায় মানুষ উপকৃত হবে
প্রতি বছর বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ মারা যায় কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে। বাংলাদেশেও এ সংখ্যা কম নয়। বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর কিডনি রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে; বাড়ছে এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যাও। দেশে বর্তমানে ২ কোটিরও বেশি মানুষ কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। চিকিত্সা ব্যয়বহুল হওয়ায় বিনা চিকিত্সায় মারা যায় ৯০ শতাংশ মানুষ।
সচেতনতার অভাবে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কিডনি প্রায় ৭৫ শতাংশ বিকল হওয়ার পরই এ রোগ ধরা পড়ে। প্রতি বছর কিডনি রোগে আক্রান্তদের মধ্যে মারা যায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ। মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষ বেশি সংখ্যা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এদিকে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সহজ করতে আইন শিথিল করা হচ্ছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে নিকট-আত্মীয়ের বাইরে পরিচিত কিংবা সম্পর্ক আছে এমন ব্যক্তিরা, ইমোশনাল কারণে মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ শর্তসাপেক্ষে দান করতে পারবেন। এমন বিধান রেখে মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ছয় মাসের মধ্যে সংশোধন করার নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।
একটি রিট মামলায় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। দাতা নিজ ইচ্ছায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করছেন কিনা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেনাবেচা হচ্ছে কিনা, দাতা মানসিকভাবে সুস্থ, মাদকাসক্ত কিনা, তাও নির্ণয় করার গাইডলাইন দিয়েছে আদালত।
আইন অনুসারে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেনাবেচা নিষিদ্ধ। আগে বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে, মামা, চাচা, খালা ও ফুফু কিডনি দিতে পারতেন। আইন সংশোধন করার ফলে মামাতো ভাইবোন, খালাতো ভাইবোন ও ফুফাতো ভাইবোনও কিডনি দিতে পারবেন।
আদালতের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রর্নমেন্টের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার কাজী রকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ রায়ে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট নিয়ে বড় বাধা দূর হলো। এখন মানুষ সহজে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে পারবেন। এতে দেশের চিকিৎসা সেবায় কারিগরি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হবে। সাধারণ মানুষ উপকার পাবে, তাদের আর বিদেশে যেতে হবে না।
দেশে ২ থেকে ৫ লাখ টাকায় কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা যায়। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা লাগে। সিঙ্গাপুরে লাগে ১ কোটি এবং থাইল্যান্ডে লাগে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। কিডনি সহজ লভ্য হলেও এখন ট্রান্সপ্ল্যাট ও ডায়ালাইসিসের সুযোগ বাড়েনি। সরকারি ন্যাশনাল কিডনি ইনস্টিটিউট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), কিডনি ফাউন্ডেশনসহ আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে ট্রান্সপ্ল্যান্টের ব্যবস্থা আছে। সরকারি আটটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেবা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভেজাল খাবার খাওয়া, খাদ্যসামগ্রীতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে কীটনাশক ব্যবহার না করা কিডনি রোগী বাড়ার উল্লেখযোগ্য কারণ। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ষাট বছরের বেশি বয়স্ক প্রতি তিনজনের একজনের দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ বিদ্যমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০৩০ সালে এই সংখ্যা দ্বিগুণ এবং ২০৫০ সালে তিন গুণ হবে।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।