বাংলাদেশে করোনার লক্ষণ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু: বিএনপির প্রতিক্রিয়া
বিশ্বব্যাপী করোনা আতঙ্কের মাঝে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে মানুষ মারা যাবার খবর আসছে। গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত এরকম অন্তত: সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা সন্দেহে তাদের বাড়িঘর লকডাইন করে ফেলা হয়েছে। ফলে আতঙ্ক বাড়ছে, গুজব ছড়াচ্ছে।
শেরপুর
শেরপুরের নালিতাবাড়িতে তিনদিনের জ্বর ও শ্বাসকষ্টে রোববার রাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর থেকে ওই বাড়িসহ আশপাশের দশটি বাড়ির লোকজনের চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।
পারিবারিক সুত্রে জানা ওই ব্যক্তি ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তিন দিন আগে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে নালিতাবাড়ীর গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।
আজ (সোমবার) মৃত ব্যক্তির রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে শেরপুরের সিভিল সার্জন।
কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা মারা গেছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওই ব্যক্তিকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তিন দিনের সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই ব্যক্তিকে সোমবার (৩০) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে পৌঁছার আগেই তার মৃত্যু হয়। তার দেহে করানোভাইরাস সংক্রমণের জীবাণু আছে কিনা সেটা নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দিনাজপুর
দিনাজপুরের বিরামপুরে ফরহাদ হোসেন অপি (৪০) নামক এক ব্যক্তি করোনা সন্দেহে জোতবানী ইউনিয়নের তপসী গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা গেছেন। তিনি গত কয়েকদিন আগে কুমিল্লা থেকে জ্বর, সর্দিতে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে আসে। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে রাতে মারা যায়। প্রশাসন জানতে পের ওই বাড়ির চার সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
তাছাড়া, হিলিতে জ্বর-সর্দি নিয়ে এক ব্যাক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি কুমিল্লায় এক সৌদী প্রবাসীর বাড়িতে কাজ করতেন।
যশোর
যশোরে হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে ১৬তম দিনে গোলাম মোস্তফা (৬০) নামে মালয়েশিয়া ফেরত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।
গোলাম মোস্তফা ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। তিনি মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ব্যবসা করতেন। এ জন্য প্রায়ই মালয়েশিয়া আসা যাওয়া করতেন। সবশেষ তিনি গত ১৪ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। গতকাল হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে আজ সকালে ১৬তম দিনে তিনি বাঁকড়া বাজারের বাসা থেকে তার গ্রামের বাড়ি উজ্জ্বলপুরে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তিনি মারা যান
মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া সোহরাব হোসেনকে (১২) আজ ঢাকা নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এ খবর পেয়ে হাসপাতাল জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ড দ্রুত রোগীশূন্য হয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ শহরের পূর্ব নতুনপাড়ায় ৬০ বছর বয়সী নারী’র কাশি ও শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই নারীর মৃত্যুর পর এলাকায় উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।এরপর তার স্বামীকে করোনা পরীক্ষাকরণের জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টিনের মাধ্যমে তাকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
সরকারের পলিসি একদম পরিস্কার: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘নো কিট, নো করোনা; নো টেস্ট, নো করোনা; নো পেশেন্ট, নো করোনা। করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের এমন পলিসি জনগণের কাছে একদম পরিস্কার।’
সোমবার (৩০ মার্চ) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সরকারের এই লুকানো পলিসি যাতে কেউ প্রকাশ না করতে পারে, সেজন্য নানা রকমের অপচেষ্টা চলছে। এই লুকানোর পলিসির নাম দিয়েছে গুজব। যে পলিসি করে অনেক দেশের সরকার তাদের নিজেদের সর্বনাশ করেছে।
রিজভী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে টানা দুইদিন বলা হচ্ছে, দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত নেই। অথচ পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনসহ মিডিয়া প্রতিদিন সর্দি, জ্বর, কাশিতে মারা যাওয়ার খবর দিচ্ছে। করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যুর সংবাদ ছাপা হয়েছে আজকের খবরের কাগজে।
রিজভী আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ২০ শতাংশ অর্থাৎ তিন কোটি ৪০ লাখ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এর মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষের অবস্থান অতি দারিদ্র্যসীমার নিচে। তাদের কাছে খাদ্য সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে। কিন্তু সরকারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ ও আন্তরিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন দেশের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, এই সরকার দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কিছুই করছে না।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।