ভিড় এড়িয়ে চলুন, ঘরে বসেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করুন: প্রধানমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i80153-ভিড়_এড়িয়ে_চলুন_ঘরে_বসেই_ঈদের_আনন্দ_উপভোগ_করুন_প্রধানমন্ত্রী
করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে ঈদ এলেও তাতে স্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতায় কোনো ঢিল না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (রোববার) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
মে ২৪, ২০২০ ১৫:৫৭ Asia/Dhaka
  • জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে ঈদ এলেও তাতে স্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতায় কোনো ঢিল না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (রোববার) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি।

সবাইকে ‘ঈদ মোবারক’ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা নামক এক প্রাণঘাতী ভাইরাস সারা বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। তার ওপর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এ বছর সকল ধরনের গণ-জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে স্বাভাবিক সময়ের মতো এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করা সম্ভব হবে না।  তাই ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে মসজিদে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের যাঁরা সামনে থেকে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

একইসাথে  পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ সরকারের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তাদেরকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন সরকার প্রধান।

“অনেকক্ষেত্রে করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির দাফন ও সৎকারের ব্যবস্থাও তাঁদের করতে হচ্ছে। সংবাদকর্মীগণ সংক্রমনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরছেন এবং মানুষকে সচেতন করতে সহায়তা করছেন। তাঁদেরও ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।“ 

“এসব কাজ করতে গিয়ে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মী এবং সংবাদকর্মী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। বেশ কয়েকজন ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ব্যাংক ও সংবাদকর্মী ইতোমধ্যে মারা গেছেন। আমি তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।“

এ সময় করোনা পরিস্থিতির কারণে অসহায় অবস্থায় পতিত জনগোষ্ঠীকে সরকারের বিশেষ ত্রাণ সহায়তা দেবার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, “ঝড়-ঝঞ্ছা-মহামারি আসবে। সেগুলো মোকবিলা করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যে কোন দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সঙ্কট যত গভীরই হোক জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা উৎড়ানো কোন কঠিন কাজ নয়।“

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা ঈদের আগে স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যান্য নিয়মনকানুন মেনে কিছু কিছু দোকানপাট খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছি। যারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন এবং যারা দোকানে কেনাকাটা করতে যাচ্ছেন, আপনারা অবশ্যই নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন। ভিড় এড়িয়ে চলবেন। আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে। মনে রাখবেন আপনি সুরক্ষিত থাকলে আপনার পরিবার সুরক্ষিত থাকবে, প্রতিবেশী সুরক্ষিত থাকবে, দেশ সুরক্ষিত থাকবে।" #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।