বাংলাদেশে চিকিৎসার অভাবে করোনা রোগী মৃত্যুর বেশ কিছু অভিযোগ: আদালতে রিট
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) উপসর্গ নিয়ে চার হাসপাতাল ঘুরেও ভর্তি হতে না পেরে চিকিৎসার অভাবে বৃহস্পতিবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা গেছেন গাজীপুরের টঙ্গীর এক ব্যবসায়ী মো. মাহতাব উদ্দীন ফকির (৫২)।
আগের দিন বুধবার রাতে চট্টগ্রামের তিন হাসপাতালে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ছেলে অভিজিৎ। করোনা ভেবে কোনো হাসপাতালেই ভর্তি নেয় নি। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাবার পর চিকিৎসা শুরুর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ৬২ বছর বয়সী প্রীতি বিকাশ দত্ত।
পাঁচ দিন আগে চার হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের শাহ আলম (৫৫) নামে এক ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে স্ট্রোক করে একই রাতে মারা গেছেন তার বাবা মো. আবদুল বারেক (৮০)।
এরকম অসহায় মৃত্যুর খবর এখন প্রতিদনই গনমাধ্যমে ছাপা হচ্ছে । এ প্রেক্ষিতে গত ১১ মে দেশের সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আগত রোগীদের ফেরত না পাঠিয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা জারি করে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়। অথচ সরকারের সেসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক সাধারণ রোগীদের করোনা সার্টিফিকেট ছাড়া ভর্তি নিচ্ছে না।
হাসপাতালগুলাতে রোগী সেবা দান বা ধারন ক্ষমতার স্বল্পতাও এ ক্ষেত্রে সমস্যাকে জটিল করে তুলছে কলে মনে করেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রসঙ্গে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ডাক্তার নিরুপম দাশ রেডিও তেহরানকে বলেন, এখন হচ্ছে ফ্লুর সিজন। এসময় এমনিতেই সর্দি-কাঁশি বেশি হয়। তার সাথে যুক্ত হয়েছে করোনা সংক্রমণ। তাই এসময় হাসপাতালে রোগী আসার পর তাদের লক্ষন বা উপসর্গ দেখে আইসোলনে রাখতে হবে পর্যবেক্ষণের জন্য। যেসব হাসপাতালে আইসোলেশন ইঊনিট নেই সেখানে রোগী ফেরত দেবার ঘটনা ঘটছে। তাই প্রতিটি হাসপাতালে আইসোআলেশন ইউনিট স্থাপন করাটা জরুরি দরকার।
এদিকে হা্সপাতালে রোগী ফেরত দেয়া বা চিকিৎসা সূযোগ না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী এএম জামিউল হক, মো. নাজমুল হুদা, মোহাম্মাদ মেহেদী হাসান ও ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান আজ শনিবার (১৩ জুন) জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছেন।
করোনাকালীন সময়ে হাসপাতাল-ক্লিনিকে আগত সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি নির্দেশনার বাস্তবায়ন চেয়ে এ রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে। রিটে সরকারের নির্দেশনা সত্ত্বেও কেন সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা ছাড়াই ফেরত পাঠানো অবৈধ হবে না এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সচিব, অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল),উপসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে রিটে।
রিটে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে করোনা বা অন্যান্য রোগের উপসর্গ নিয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসাপাতাল ও ক্লিনিক ঘুরে ঘুরে মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। করোনা টেস্ট করাতে রোগীর জন্য ৪ থেকে ৫দিন সময় লাগতে পারে। অথচ গুরুতর অসুস্থ রোগীর ক্ষেত্রে করানো টেস্ট ও সেই রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাটা অসম্ভব হয়ে থাকে। তাই প্রতিদিনই চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনা দেশের সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/১৩