বাংলাদেশে অপর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা: আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসক স্বাস্থ্য সেবাকর্মীরা
বাংলাদেশে করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজারের বেশি চিকিৎসক। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৩১ জন চিকিৎসক। তাছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৫ জনের।
সর্বশেষ আজ (মঙ্গলবার) সকালে মারা গেছেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. একেএম মুজিবুর রহমান। রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টায় মৃত্যুবরণ করেন।
করোনা রোগীদের চিকিৎসায় শুরু থেকেই সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে আসছেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্য কর্মীরা। ফলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমেই রোগ শনাক্ত না হওয়া ও অপর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসকরা। এছাড়া, দেশের বেশিরভাগ হাসপাতালের আইসিইউতেই উপযুক্ত পরিবেশ নেই। অভাব আছে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার। আর সেকারণেই অধিকসংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সেবাকর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন।
গত সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, নামকরা তিনটি হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধানরা। তারা হলেন, স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান মির্জা নাজিম উদ্দিন, বিআরবি হাসপাতালের মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন ও ইমপালস হাসপাতালের জিল্লুর রহমান।
এছাড়া, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রধান মোজাফফর হোসাইন করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের ‘জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটি’ নামক একটি নাগরিক সংগঠনের সদস্য সচিব ডাক্তার সুশান্ত বড়ুয়া রেডিও তেহরানকে বলেন, এমনিতেই বছরের পর বছর ধরে আমাদের হাপাতালগুলির নিজস্ব স্বাস্থ্যমান সন্তোষজনক পর্যায় নেই। এ অব্স্থায় করোনার মত একটি ভয়ানক ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্তদের এক সাথে অনেককে সামাল দিতে গিয়ে আমাদের আরো নাজুক অবস্থায় পড়তে হয়েছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরে জীবাণু শোধন এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব, চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের জন্য প্রথম দিকে সরবরাহ করা স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রীর অপর্যাপ্ততা ও নিম্ন মান, সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারের প্রশিক্ষণের অভাব- এসব কারণে রোগীদের সরাসরি সংস্পর্শে আসা ডাক্তার নার্স বা টেকনিশিয়ানরা বেশি বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। তাছাড়া, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের পর তা বিনষ্ট করার ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য সম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করা জরুরি।

চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ’র মহাসচিব ডা. মোঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেছেন, হাসপাতালের আইসিউগুলিকে যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত না করার ফলে সেখানেও করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকগণ আক্রান্ত হচ্ছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেনিন চৌধূরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, পেশাগত কারণেই চিকিৎসকদের প্রতিদিনই অসংখ্য রোগীর সংস্পর্শে আসতে হয়। এ সময় করোনা উপসর্গ নেই বা করোনা পরীক্ষা হয়নি এমন সংক্রমিত রোগীও থাকতে পারে। সেখান থেকেও চিকিৎসক বা সেবাকর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই দ্রুত পদ্ধতিতে দু’এক ঘণ্টায় পরীক্ষার ফল পাওয়া যায় এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে চিকিৎসক বা সেবাকর্মীরা সতর্ক থাকতে পারে। এর ফলে চিকিৎসক বা সেবাকর্মীদের সংক্রমিত হবার ঝুঁকিও কমে আসবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।