বাংলাদেশে করোনাকালে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৫ লাখ সদস্য
বাংলাদেশে পার্বত্য ও সমতলের ২৮টি জেলায় ৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাস। এদের মোট জনসংখ্যা সংখ্যা ২০ লাখেরও বেশি। দরিদ্রদের মধ্যে দরিদ্র, প্রান্তিকদের মধ্যে প্রান্তিক- এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা। করোনাকালে তারা আরও প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে, আরও দরিদ্র হয়েছে।
করোনাকালে আদিবাসীদের টিকে থাকা প্রসঙ্গে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, করোনার কারণে দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে এসব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় ৫ লাখ সদস্য। বেসরকারি সংস্থা ইনডিজেনাস পিপলস ডেভলপমেন্ট সার্ভিসেস (আইপিডিএস) পরিচালিত এ গবেষণায় জানা গেছে, সমতলের বাসিন্দা- দরিদ্র সাঁওতাল, মুন্ডা, গারো, হাজং- এসব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তত: ৯২ ভাগ লোকের আয় রোজগার কমে গেছে; ৭২ শতাংশ তাদের চাকরি হারিয়েছে। ফলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৬২ ভাগ মানুষ ছিটকে পড়েছে অতি-দারিদ্র সীমার নিচে যাদের আয় দৈনিক দুই ডলারের কম।
করোনাকালে বাংলাদেশের সমতলে বসবাসরত এসব নৃগোষ্ঠীর আর্থিক সংকটের কথা ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ সান্তাল কাউন্সিল- এর সভাপতি এস সি আলবার্ট সোরেন রেডিও তেহরানকে বলেন, শহরে পোশাক শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মী, গাড়ী চালক, বিউটি পার্লার, গৃহ পরিচারিকা- এসব কাজে নিয়োজিত নারী-পুরষ অনেকের চাকরি চলে গেছে করোনার কারণে। অপরদিকে গ্রামে দিনমজুরি করার সুযোগ ও আয় দুটোই কমে গেছে। ফলে তাদের সপরিবারে অর্ধাহার আনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।
আলবার্ট সোরেন আরো জানান, করোনাকালে ত্রাণ সামান্যই জুটেছে হতদরিদ্র এসব নৃগোষ্ঠীর মানুষদের ভাগ্যে। তাদের জন্য কোন প্রনোদনা নেই; কৃষি কাজের জন্য নিজেদের জমি নেই বলে ঋণ দেয়া হয় না; কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে তাদের ডাকা হয় না, এমনকি ভিজিএফ কার্ড বা বয়স্ক ভাতার কার্ডও পায় না তারা।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নেতারা দাবি জানিয়েছেন, যেন করোনার মোকাবিলায় দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং এসব জনগোষ্ঠীর কর্মহীন তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। দেশের নাগরিক হিসেবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মানুষদেরও এসব ন্যায্যভাবেই প্রাপ্য ও অধিকার বলে উল্লেখ করে এসব অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা।
ইনডিজেনাস পিপলস ডেভলপমেন্ট সার্ভিসেস (আইপিডিএস)-এর সভাপতি সঞ্জীব দ্রং বলেছেন, তাদের জন্য পৃথক কোন মন্ত্রনালয় বা সরকারি সংস্থা না থাকার কারণে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রাষ্ট্রের কাছ থেকে তাদের ন্যায্য পাওনাটুকু পেতেও পদে পদে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সমতলে বসবাসরত ক্ষদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য একটি পৃথক মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় আদিবাসী নীতি প্রনয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সঞ্জীব দ্রং। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।