অন্য কারও উসকানি থাকতে পারে: পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি
কুরআন অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা: তদন্ত শুরু
উত্তরের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে কুরআন অবমাননার অভিযোগ একজন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অন্য কারও উসকানি থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য।
আজ শনিবার পাটগ্রাম শহীদ আফজাল হোসেন হলরুমে স্থানীয় আলেম সমাজের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান।
ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, পাটগ্রাম থানার বুড়িমারীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। ছোট একটি ঘটনাকে রং দিয়ে পেছন থেকে কেউ সুযোগ নিতে পারে। তাই পুরো ঘটনাটি একাধিক সংস্থা তদন্ত করছেন। একটু অপেক্ষা করুন প্রকৃত রহস্য বের হবে।
এর আগে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদের অনুষ্ঠিত বৈঠকে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওহাব ভূঞা, জেলা প্রশাসক আবু জাফর, পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা, পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল, ইউএনও কামরুন নাহার, ওসি সুমন কুমার মোহন্ত উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বৈঠকে ওই উপজেলার ইমাম মোয়াজ্জেমসহ ৫ শতাধিক আলেম উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর কেন্দ্রীয় মসজিদে কুরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগে তুলে বিক্ষুব্ধ জন গত বৃহস্পতিবার শহিদুন্নবী জুয়েল (৫০) নামক এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে এবং পরে তার লাশ পুড়িয়ে দেয়।
নিহত শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। জুয়েল রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের গ্রন্থাগারিক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে গত বছর চাকরিচ্যুত হওয়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, পিটিয়ে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন নিহত জুয়েলের শ্যালক মিলন হক তালুকদার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমার ভগ্নিপতি যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দেয়া যেতো। কিন্তু তা না করে কেন নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেয়া হল?ঘটনাটি সভ্য সমাজের কোনো মানুষই সমর্থন করে না।’ তিনি এ ঘটনার ন্যায়বিচার চান।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে? শুক্রবার সকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর।
এ ছাড়া, রংপুর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩) ইতোমধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। এ ছাড়া পাশাপাশি কাজ করছেন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র সদস্যরা।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন রংপুরে র্যাব-১৩ এর উপপরিচালক মেজর আব্দুল্লাহ আল মুইন হাসান জানান, ‘লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন ও পুলিশের অনুরোধে র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান হাফিজের নেতৃত্বে একটি দল তদন্ত করছে।’ #
পার্সটুডে/এআরকে/এমএএইচ/৩১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।