ঢাকায় একদিনে ১০ বাসে আগুন: পরস্পরকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দোষারোপ
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় গতকাল বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেছেন, এ ঘটনা প্রমাণ করে- বিএনপি তাদের চিরাচরিত সন্ত্রাসী পন্থা পরিহার করতে পারেনি। তাদের এই ধরনের সন্ত্রাসী চরিত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণ তাদের বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। নিরীহ মানুষের জীবন ও সম্পদহানির মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালাবে- এটা তাদের পুরোনো অভ্যাস।
আজ (শুক্রবার) সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে একে একে ৯টি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে উত্তরার আজমপুরে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়া হয়। আগুনে পুড়ে যাওয়া বাসের মধ্যে ৩টি সরকারি বাস।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, দুর্বৃত্তরা যাত্রীবেশে বাসগুলোতে আগুন লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে গেছে। যেসব বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, তাতে ৩ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জন যাত্রী ছিলেন।
এ বিষয়ে আজ (শুক্রবার) সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অতীতের ন্যায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত আছে।
এছাড়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বাসে আগুন দেয়া হয়েছে।
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সরকার অতীতে যখন ২০১৩-১৪ সালে এই ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করেছে, আমরা ইনশাআল্লাহ এবারও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করবো।
এর আগে সরকারপক্ষ বলেছে, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ গতকাল বিকেলেই রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে পৃথক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করেছে।
বিএনপি’র নিন্দা
ওদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন দেওয়া ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সরকারের এজেন্টরা বিএনপি’র আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে গাড়ি পুড়িয়েছে।
আজ (শুক্রবার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গণতন্ত্র না থাকলে দুষ্কৃতিকারীরা এমন নাশকতা চালায়, সরকারের কিছু এজেন্ট থাকে যারা স্যাবটাজ করে ভালো আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে নাশকতার সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে একযোগে ৯ স্থানে বাসে আগুন দেয়া বিএনপির কাজ নয়। বিএনপির এ রকম সক্ষমতা নেই। থাকলে অনেক আগেই সরকারের পতন হয়ে যেত।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, হঠাৎ করে একযোগে অনেকগুলো বাসে আগুন, সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলা একটি পরিকল্পিত ঘটনা।
৯ মামলায় ৪৪৬ আসামি
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৪৪৬ জনকে। আটক করা হয়েছে ২০ জনকে। আসামিদের বেশির ভাগ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।
পুলিশ বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ (শুক্রবার) এ মামলাগুলো দায়ের করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের জানিয়েছে, মতিঝিলে ২টি, শাহবাগে ২টি, পল্টনে ২টি এবং বংশাল, ভাটারায় ও কলাবাগানে একটি করে মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার পক্ষকে দায়ী করে বলেছেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক। তিনি দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।