বাংলাদেশে মাধ্যমিক ভর্তি লটারির মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত: বিভিন্নমহলের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i85312-বাংলাদেশে_মাধ্যমিক_ভর্তি_লটারির_মাধ্যমে_করার_সিদ্ধান্ত_বিভিন্নমহলের_প্রতিক্রিয়া
করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বাংলাদেশে এবার স্কুল পর্যায়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ১৩, ২০২০ ১৮:২০ Asia/Dhaka

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বাংলাদেশে এবার স্কুল পর্যায়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এর জারি করা ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে লটারির মাধ্যমে ভর্তির জন্য কেবল অনলাইনে ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত সরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। ভর্তির আবেদন করতে ১১০ টাকা ফি টেলিটকের প্রি-পেইড মোবাইল থেকে এসএমএস করে পরিশোধ করা যাবে।

৩০ ডিসেম্বর অনলাইনে লটারির মাধ্যমে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

এর আগে এক এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ বছরের ভর্তি নীতিমালায় পরিবর্তনের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন,এর আগে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লটারির ব্যবস্থা চালু ছিল। অন্য শ্রেণিতেও এ পদ্ধতি আনুসরণ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন,ভর্তি পরীক্ষা মেধার পরিবর্তে ভাগ্য নির্ভর হলেও স্কুলগুলির মধ্যে একরকম সমতা ফিরে আসবে। 

এবছর স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে আরো দু’টি পরিবর্তনের কথা জানিয়ে দীপু মনি বলেছেন,এবার স্কুলের  আওতাধীন এলাকা (ক্যাচমেন্ট এরিয়া) থেকে শতকরা ৫০ ভাগ ছাত্র ভর্তি  নেয়া হবে। তাছাড়া,এবার একজন শিক্ষার্থী তার পছন্দের তালিকায় পাঁচটি স্কুলের নাম লিখতে পারবে। আবেদন গ্রহণের পর অনলাইনের মাধ্যমে লটারিতে একজন শিক্ষার্থীকে একটি বিদ্যালয় নির্বাচন করে দেওয়া হবে। এতদিন একজন শিক্ষার্থী একটি গ্রুপের একটি বিদ্যালয়কে বেছে নেওয়ার সুযোগ পেত।

প্রতিবছর শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। আর নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হতো জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে। এবার জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা না হওয়ায় নবম শ্রেণিতেও অষ্টমের সমাপনীর ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থাকছে না।

মেধা নয় ভাগ্য নির্ভর ভর্তি ব্যবস্থার সমালোচনা করে সাবেক শিক্ষা-প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন রেডিও তেহরানকে বলেছেন,একটি জাতিকে মেধাহীন করে তুলতে  সরকার এরকম আত্মঘাতী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তারা আনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারে নি কারণ,তারা নিজেরাই স্বীকার করছেন তাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ কতটা ফাঁকাবুলি।

এদিকে,লটারিতে ভর্তি হবার ব্যাপারে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে রাজধানীর একজন অভিভাবক সেতারা কবির সেতু পত্রিকায় নিবন্ধ লিখে  জানিয়েছেন,লটারি সম্পূর্ণ অনিশ্চিত একটি পদ্ধতি। এখানে কখনোই আগে থেকে জানা যায় না কার নাম লটারিতে আসবে। কয়েকটি স্কুলে আবেদন করার পরও যখন লটারিতে ভর্তিচ্ছু শিশুটির নাম পাওয়া যায়  না তখন ওই ছোট্ট শিশুর মনের উপর একটি বিরূপ প্রভাব পড়ে। তার অভিভাবকও আশাহত হন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/১৩ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।