বাংলাদেশে করোনাভাইরাস: স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে বড় বিপদের ‘শঙ্কা’ দেখছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i88662-বাংলাদেশে_করোনাভাইরাস_স্বাস্থ্যবিধি_না_মানলে_সামনে_বড়_বিপদের_শঙ্কা’_দেখছে_স্বাস্থ্য_অধিদপ্তর
বাাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এখন কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে বড় বিপদের ‘শঙ্কা’ দেখছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ১৪, ২০২১ ১৫:২২ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশে করোনাভাইরাস: স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে বড় বিপদের ‘শঙ্কা’ দেখছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

বাাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এখন কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে বড় বিপদের ‘শঙ্কা’ দেখছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আজ (রোববার) রাজধানীর শ্যামলীর টিবি হাসপাতালে ওয়ান স্টপ টিবি সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক এবিএম খুরশীদ আলম জানান,  ‘এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই তরুণ, আক্রান্তদের অনেককেই আইসিইউতে ভর্তি করা প্রয়োজন হচ্ছে। ’

অধ্যাপক এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, ‘গত দুই মাসে আমার কাছে কখনোই আইসিইউ বেডের জন্য কোনো অনুরোধ আসে নাই। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ফোন পাচ্ছি আইসিইউ বেড পাওয়া যাচ্ছে না। আগে আমরা দেখছিলাম যাদের কোমর্বিডিটি আছে তাদের আইসিইউ লাগত। এখন ইয়াং, ভালো, সুস্থ, তারাও আক্রান্ত হচ্ছেন।’

সবাইকে সতর্ক করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘গেল দুই মাস আমরা স্বস্তিতে ছিলাম, তাই এখন আমরা কোনো কিছু মানছি না। সামনের দিকে আমরা আরও বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছি যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি না মানি।’

এদিকে, বাংলাদেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ছয় জন নারী। তাদের সবারই হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে পর্যন্ত ৮ হাজার ৫৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য  জানানো হয়েছে।

এ ছড়া, দুই মাসের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায়  সংক্রমিত রোগী শনাক্তের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসময়  নতুন করে এক হাজার ১৫৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল আটটা থেকে আজ রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ২০৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনায় সংক্রমিত ১ হাজার ১৫৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। একই সময়ে মারা গেছেন ১৮ জন।

গত ৩০ ডিসেম্বরের পর আজ সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ২০৬ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছ

এ পর্যন্ত দেশে মোট ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৫ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮ হাজার ৫৪৫ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ১১ হাজার ৬৯৫ জন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে আর দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা আসে ১৮ মার্চ।

দেশে সংক্রমণ শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ আবার কমতে শুরু করে। তবে চার সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী।

করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এদিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।

পার্সটুডে/আব্দুুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।