ফের সবকিছু নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i89478-ফের_সবকিছু_নিয়ন্ত্রণের_আওতায়_আনা_হতে_পারে_প্রধানমন্ত্রী
জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম ধাপের মতো ফের সবকিছু নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
এপ্রিল ০১, ২০২১ ১৫:৩৫ Asia/Dhaka
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম ধাপের মতো ফের সবকিছু নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রায় নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছিলাম, কিন্তু গোটা বিশ্বেই এর প্রভাব বেড়েই চলেছে। দেশেও করোনার প্রাদুর্ভাব হঠাৎ বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, টিকা নেওয়ার পর মানুষের উদাসীনতা বেড়ে গেছে। বিয়ে-পর্যটনসহ নানা কারণে যারা বেশি বেশি ঘুরে বেড়িয়েছেন তারাই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বেশি। মাস্ক পরাসহ, যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি।

এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে হাসপাতালগুলোতে জায়গা দেয়া সম্ভব হবে না।

বৃহস্পতিবার সকালে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ১০টি আইসিইউ বেডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমন  আশঙ্কার কথা জানান ।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে গোটা  ঢাকা শহরকে হাসপাতালে পরিণত করলেও সবাইকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে না। করোনার উৎপত্তির উৎস বন্ধ না করলে শুধুমাত্র সেবা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’

জাহিদ মালেক বলেন,  ‘সম্প্রতি করোনাভাইরাসের যে আক্রান্তের হার তা গত চার মাস অপেক্ষা বহুগুণে বেশি। আমরা প্রস্তুতি হিসেবে হাসপাতালে বেডের সংখ্যা বাড়াচ্ছি কিন্তু এটা সমাধান না। আমরা সব মিলিয়ে সাড়ে ৩ হাজার বেড বৃদ্ধি করলাম কিন্তু এর বিপরীতে দিনে ৫০০ জন করে রোগী এলো। এটাতে এক সপ্তাহে এসব বেড রোগীতে পূর্ণ হয়ে যাবে। এ থেকে বাঁচতে হলে আমাদের সচেতনতা জরুরি। মাস্ক ছাড়া সামাজিক, ধর্মীয়সহ সব অনুষ্ঠান কিংবা চলাফেরা বন্ধ করতে হবে।’

করোনা রোগী বাড়ছে, আইসিইউ সংকট বাড়ছে: 


করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৩১ জেলার মধ্যে ১৫টিতেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নেই। ১০ মাস আগে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এত দিনেও জেলা পর্যায়ে আইসিইউ ইউনিট তৈরি না হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের গাফিলতিকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকায় করোনার জন্য নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থাপনার ১০টি হাসপাতালের ১০৮টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে গতকাল ৩১ মার্চ ১০৩টিতে রোগী ভর্তি ছিল। 

ঢাকায় আইসিইউর পাশাপাশি সাধারণ শয্যাতেও রোগীর চাপ বেড়েছে। ঢাকায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় করোনা রোগীদের জন্য সাধারণ শয্যা রয়েছে ২ হাজার ৫১১টি। এগুলোর মধ্যে ২ হাজার ২৪৬টি শয্যায় রোগী ভর্তি ছিল। ফাঁকা ছিল ২৬৫টি শয্যা।


১০ মাসেও বাস্তবায়িত হয়নি নির্দেশনা

গত বছরের ২৭ এপ্রিল দেশের সব জেলায় আইসিইউ স্থাপন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর গত বছরের ২ জুন একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে প্রতিটি হাসপাতালে ভেন্টিলেটর স্থাপন এবং উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা বাড়াতে বলেন তিনি। এ জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার নির্দেশও দেন। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে  বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেয়ার পরে গত ১০ মাসে জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউর ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল। করোনা রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একেবারেই মনোযোগ দেয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও এনসিডিসির লাইন ডিরেক্টর রোবেদ আমিন গণমাধ্যমকে  জানিয়েছে,  সপ্তাহখানেকের মধ্যে জেলা পর্যায়ে আইসিইউ ইউনিট করার মতো যন্ত্রপাতি, শয্যার ব্যবস্থা করা সম্ভব। কিন্তু আইসিইউ পরিচালনা করতে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স প্রয়োজন। জেলা পর্যায়ে আইসিইউ ইউনিট করার মতো লোকবলের অভাব রয়েছে।#

এআরকে-১/পার্সটুডে

 বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।