করোনা আক্রান্ত খালেদা জিয়া সিটি স্ক্যানের জন্য হাসপাতালে
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i90176-করোনা_আক্রান্ত_খালেদা_জিয়া_সিটি_স্ক্যানের_জন্য_হাসপাতালে
করোনাভাইরাস আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী গাড়িটি হাসপাতালে পৌঁছায়।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
এপ্রিল ১৫, ২০২১ ১৭:৫১ Asia/Dhaka
  • গুলশানের ফিরোজা বাসভবন থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে বের হন খালেদা জিয়া
    গুলশানের ফিরোজা বাসভবন থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে বের হন খালেদা জিয়া

করোনাভাইরাস আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী গাড়িটি হাসপাতালে পৌঁছায়।

এর আগে বিকেলে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক জানান, করোনায় আক্রান্ত খালেদা জিয়ার দ্রুত সিটি স্ক্যান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে তখন তিনি বলেননি কখন কোথায় সিটি স্ক্যান করা হবে। পরে জানা যায় রাতেই এভার কেয়ার হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করা হবে।

গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে আসার পর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের প্রধান অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডামের আজ সপ্তম দিন। কোভিডের পরিভাষায় ম্যাডাম এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে এন্ট্রি হচ্ছেন। আমি আগেও বলেছি যে, কোভিডের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। যত সাবধানতা, যত জটিলতা সেগুলো সাধারণত দ্বিতীয় সপ্তাহে হয়। সেজন্য আমরা আরেকটু সাবধানতা অবলম্বন করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘ওনার সব পরীক্ষা করা হয়েছে। শুধু সিটি স্ক্যানটা করানো হচ্ছিল না। এছাড়া ওনার আর সব যেমন বায়োকেমিক্যাল প্যারামিটারস, ফিজিক্যাল স্ট্যাটাস, অক্সিজেন স্যাচুরেশন এবং অ্যাপেটাইট, পালস, ব্লাড সার্কুলেশনসহ অন্য সব দিকে উনি আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটি ভালো আছে।’ 

অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী জানান, ‘খালেদা জিয়ার মানসিক অবস্থা ভালো আছে। আর উনি নিজেই বলেছেন যে, উনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সেটা ফিল করছেন না। তিনি বলেছেন, টেস্ট না হলে তো কিছু বুঝতামই না। তাতে বলা যায়, উনার মানসিক অবস্থা ভালো আছে।’

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত রোববার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তখন থেকে গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন। তাঁর বাসার আরও কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শুরু থেকেই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের দেখভাল করছেন এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতের রায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাবন্দি হন খালেদা জিয়া। তারপর নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে শুরু হয় তাঁর কারাজীবন। একই বছরের ৩০ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর বাড়িয়ে ১০ বছরের আদেশ দেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ।

অন্যদিকে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। 

গত বছর সারা বিশ্বে মহামারি করোনা ছড়িয়ে পড়লে শর্তসাপেক্ষে সরকার প্রধানের নির্বাহী আদেশে জামিন পান খালেদা জিয়া। প্রায় ২৫ মাস (কারাগার ও বিএসএমএমইউ'র প্রিজন সেল) কারাভোগের পর তিনি ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্ত হন। বিএসএমএমইউ প্রিজন সেল থেকে মুক্তির পর গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।