চুক্তি অনুযায়ী ভারতের কাছ থেকে করোনার টিকা পাওয়া যাচ্ছে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চুক্তি অনুযায়ী ভারতের কাছ থেকে সময়মতো করোনার টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে আক্ষেপ করেছেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগাম টাকা-পয়সা দিয়ে আমরা ৩ কোটি ভ্যাকসিনের জন্য চুক্তি করেছিলাম। কিন্তু সময় মতো তা পাওয়া গেল না। এতে করে টিকাদান কর্মসূচির স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।
জাহিদ মালেক বলেন, টিকা আনার জন্য চুক্তিতে উল্লিখিত লোকাল এজেন্ট বেক্সিমকো ফার্মা খুব চেষ্টা করে যাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও অনেক দেন-দরবার করা হচ্ছে। টিকা পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বারবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তাকে আশ্বাস ছাড়া কিছুই মিলছে না।
ভারতের ভ্যাকসিন অনিশ্চয়তায় রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
এরই মধ্যে দেশে রাশিয়ার টিকা স্পুটনিক ভি’র জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত জরুরি জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রের ওষুধ, পরীক্ষামূলক ওষুধ, টিকা ও মেডিক্যাল সরঞ্জামবিষয়ক কমিটি এ অনুমোদন দিয়েছে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমোদন দিলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড এ সাত দেশে ব্যবহারের অনুমোদন থাকলে সেসব ওষুধ, টিকা বা চিকিৎসাসামগ্রী বাংলাদেশে অনুমোদন দেওয়া হয়। ধরে নেওয়া হয় বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকর ও নিরাপদ বলেই এসব ওষুধ ও টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ওই দেশগুলো অনুমোদন দেয়। কিন্তু রাশিয়ার টিকাটি ওই সব দেশ বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন এখনও পায়নি। সে কারণে টিকাটির বিশেষ অনুমোদন দরকার ছিল।
এদিকে, দেশে অক্সিজেনের কোনো ঘাটতি নেই। তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগী যদি তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পায় তাহলে সমস্যা হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, হাসপাতালে যদি সাত হাজার রোগী ভর্তি থাকে তাহলে অক্সিজেনের কোনো ঘাটতি হবে না। যদি ২১ হাজার রোগী ভর্তি হয় তাহলে হাসপাতালে অক্সিজেনের ঘাটতি থাকবে। তখন আমাদের পক্ষে সমাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
জাহিদ মালেক বলেন, করোনার প্রথম ঢেউ আমরা যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে সামলে নিয়েছিলাম। বর্তমান সময়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণ সম্পর্কে আমরা সচেতন না হলে সামনে আবার করোনার তৃতীয় ঢেউ চলে এলে অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে দেখা দিতে পারে। এ কারণে করোনার হাত থেকে বাঁচতে চাইলে দেশের প্রতিটি মানুষকে করোনা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফেব্রুয়ারিতে যখন করোনায় মৃত্যু ৩/৪ জনে নেমেছিল তখন মানুষ ভেবেছিল করোনা দেশ থেকে চলে গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষ অনিহা দেখাচ্ছিল। কক্সবাজার, সিলেটসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ভ্রমণ করেছে। অধিক হারে বিয়ে অনুষ্ঠান, পিকনিকসহ নানা রকম সামাজিক অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এসব কারণেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। দিনে প্রায় শত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। সময় মতো সরকার ‘লকডাউন’ ঘোষণা করায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ হয়তো সামনেই কমে যাবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন