উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মারাত্মক সংক্রামক করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
এক বছরের অধিক সময় ধরে করোনা কবলিত বাংলাদেশের রাজধানীজুড়ে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাইরাসটির মারাত্মক সংক্রামক ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা সংস্থা আইসিডিডিআরবি'র সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকায় শনাক্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর ৬৮ শতাংশের দেহে অস্তিত্ব রয়েছে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের। প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা গত ২৫ মে থেকে ৭ জুনের মধ্যে ঢাকার ৬০ জন কোভিড রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে জিনোম সিকোয়েন্স করেছে। এদের মধ্যে অন্তত ৪১ জন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমিত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২২ শতাংশের নমুনায় পাওয়া গেছে সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগন বলছেন, ঢাকায় এখন ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণের সময়কাল চলছে। ঢাকায় যারা এখনও ভ্যাকসিন পায় নাই, যারা এখনও করোনা আক্রান্ত হননি তারা এই ভ্যারিয়েন্টে সংক্রামিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ঢাকায় সংক্রমণ কম হলেও, ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে এই ভ্যারিয়েন্টের প্রভাব পড়বে, সেখানে সংক্রমণ বাড়বে। আর সেখানকার রোগীদের ঢাকায় নিয়ে আসা হবে, তখন এখানে চাপ বেড়ে যাবে। ফলে ঢাকার পরিস্থিতি খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের মতো হওয়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ লিয়াকত আলী বলেছেন, দেশে করোনা সংক্রমণ বিস্তার রোধে আঞ্চলিক লকডাউনসহ যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তাতে ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মাঝে কাঙ্ক্ষিত সচেতনতার অভাবও লক্ষণীয়।
পরিস্থিতি যদি মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে বেশী মাত্রায় সংক্রমিত গুচ্ছ এলাকায় কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া এখন টেস্ট বহু গুণে বাড়াতে হবে। লাখ লাখ মানুষের টেস্ট করিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ মে দেশে প্রথম মারাত্মক সংক্রামক ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়।
ইতোমধ্যে ভারতের নদীর পানিতে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব সনাক্ত হবার পর বাংলাদেশেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কারণ ভারতের সাথে অন্তত: ৫৪ টি নদীর সংযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। আর এখন ভরা বর্ষাকালে প্রকৃতিগতভাবেই উজানের বানের পানি এসে ঢুকবে বাংলাদেশে।
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/১৮