ডেসটিনি গ্রুপের কারাবন্দি এমডি’র ‘জুম মিটিং’: তদন্ত কমিটি, কারারক্ষী প্রত্যাহার
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i94034-ডেসটিনি_গ্রুপের_কারাবন্দি_এমডি’র_জুম_মিটিং’_তদন্ত_কমিটি_কারারক্ষী_প্রত্যাহার
রফিকুল আমিনের সঙ্গে থাকা ৮ কারারক্ষী প্রত্যাহারদুর্নীতি মামলায় কারাগারের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ‘মোবাইল ফোনে জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন’ এমন অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে কারা অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আট কারারক্ষীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুলাই ০২, ২০২১ ০৭:৫৪ Asia/Dhaka
  • ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন
    ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন

রফিকুল আমিনের সঙ্গে থাকা ৮ কারারক্ষী প্রত্যাহারদুর্নীতি মামলায় কারাগারের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ‘মোবাইল ফোনে জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন’ এমন অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে কারা অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আট কারারক্ষীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

ডায়াবেটিসজনিত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুই মাস আগে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে ভর্তি হন রফিকুল আমীন। কিন্তু সেখান থেকেই তিনি ভার্চুয়াল বৈঠক করে ‘নতুন এমএলএম ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা’ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এক জুম মিটিংয়ে রফিকুল আমীন বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক দিক নির্দেশনা দেন এবং দেশের বাইরে থেকে টাকা আনার বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। ডেসটিনির কয়েকজন কর্মকর্তাও সেখানে যুক্ত ছিলেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।  

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিআইজি তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন জানান, “কোনো কারাবন্দির অনুমতি ছাড়া বাইরে কারো সাথে কথা বলার সুযোগ নেই।  কীভাবে তিনি মোবাইল জোগাড় করে কথা বললেন তা খতিয়ে দেখতেই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

কর্নেল আবরার হোসেন আরও বলেন, “কমিটি গঠনের পাশাপাশি হাসপাতালে যে সব কারারক্ষীরা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সরিয়ে অন্য সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেসব কারারক্ষীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড নামে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি দিয়ে ২০০০ সালে ডেসটিনি গ্রুপের যাত্রা শুরু। এক দশকের মধ্যে বিমান পরিবহন, আবাসন, কোল্ডস্টোরেজ, জুট মিল, মিডিয়া, বনায়নসহ বিভিন্ন খাতে ৩৪টি কোম্পানি খুলে বসে এই গ্রুপ। কিন্তু মাল্টিলেভেল মার্কেটিংয়ের নামে ২০ লাখের বেশি মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১২ সালে মামলা হলে ওই বছরের অক্টোবরে গ্রেফতার হন রফিকুল আমীনসহ কোম্পানির অধিকাংশ শীর্ষ কর্মকর্তা, বাকিরা লাপাত্তা হয়ে যান।

২০১৪ সালের ৪ মে দাখিল করা অভিযোগপত্রে আসামি করা হয় মোট ৫৩ জনকে। তাদের বিরুদ্ধে চার হাজার ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ৯৬ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচারের অভিযোগ আনা হয়। গ্রেফতারের পর থেকে কারাগারে ছিলেন রফিকুল আমিন। তবে, ডায়াবেটিসের সমস্যার কথা বলে গত এপ্রিলে তিনি বিএসএমএমইউতে ভর্তি হন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।