প্রধানমন্ত্রীর শোক
রূপগঞ্জে কারখানায় আগুনে নিহত ৫৩, প্রধানমন্ত্রীর শোক, তদন্ত কমিটি গঠন
-
হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গতকাল আগুন থেকে বাঁচতে কারখানা থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যান তিনজন শ্রমিক।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন জানান, এখন পর্যন্ত কারখানার ভেতর থেকে ৫০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কারখানায় অগ্নি নির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, “সেটা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। আমাদের তদন্ত কমিটি বের করবে কী কারণে আগুন লাগল, কত টাকার ক্ষতি হল, অগ্নি নির্বাপত্তার ব্যবস্থা ছিল কি না।”
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, উদ্ধার হওয়া আহতদের মধ্যে ১০ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া নিকটবর্তী ইউএস-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ১৬ জনকে।
প্রধানমন্ত্রীর শোক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আজ শুক্রবার এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার পর হাসেম ফুডস লিমিটেডের ৭ তলা ভবনের নিচ তলার একটি ফ্লোরে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সময়ের সাথে সাথে আগুনের লেলিহান শিখা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। কালো ধোঁয়ায় গোটা কারখানাটি অন্ধকার হয়ে যায়। শ্রমিকরা ছোটাছুটি করতে শুরু করেন। কেউ কেউ ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। এ সময় ঘটনাস্থলেই স্বপ্না রানী ও মিনা আক্তার নামে দুই নারী শ্রমিক নিহত হন।
রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মোরসালিন (২৮) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
আগুন লাগার পর থেকেই শঙ্কা ছিল কারখানার ভেতর অনেক শ্রমিক হয়তো আটকা পড়েছেন। রাত ৯টার দিকে দেখা যায়, ভবনের সামনে ও পেছন দিক থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিল ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেশি ও প্রচণ্ড কালো ধোঁয়া থাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিলেন না।
কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শাহ-আলম বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে কারখানার চারতলায় আবারও আগুন বাড়তে থাকে। অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর ১৮টি ইউনিট শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
কারখানাটির সপ্তম তলায় একটি কেমিক্যাল গোডাউন ছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। এই গোডাউনের কারণে আগুনের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

হামলা-ভাংচুর আনসারদের অস্ত্র লুট
এদিকে আজ বেলা ১১টায় নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান চেয়ে তাদের সহকর্মী এবং স্বজনেরা হামলা চালিয়ে কারখানার সামনে আটটি মোটরসাইকেল ও ১৫/২০ যানবাহন ভাঙচুর করেছে হামলা চলাকালে কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ক্যাম্পের সংরক্ষণাগার থেকে তিনটি শর্টগান লুট হয়ে যায়। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে ।

তদন্ত কমিটি গঠন
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ শুক্রবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম ব্যাপারীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
এর আগে ২২ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় আজাদ ডাইং কারখানার একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় বয়লার বিস্ফোরণে শরীফ মিয়া (৪৭) নামের স্থানীয় এক শ্রমিক নিহত হন।
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।