সরকার জনবিস্ফোরণের ভয়ে ভীত:বিএনপি, আগামী নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না:কাদের
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i98254-সরকার_জনবিস্ফোরণের_ভয়ে_ভীত_বিএনপি_আগামী_নির্বাচনে_সরকার_হস্তক্ষেপ_করবে_না_কাদের
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের শঙ্কা এবং অনাস্থার মনোভাব প্রশমিত করতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
অক্টোবর ০৫, ২০২১ ১৪:৫৮ Asia/Dhaka

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের শঙ্কা এবং অনাস্থার মনোভাব প্রশমিত করতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ (মঙ্গলবার) সকালে  সাভারের আমিনবাজারে নির্মাণাধীন ৮ লেনের সেতু পরিদর্শনে গিয়ে বলেছেন, ‘কোনো নির্বাচন-নির্বাচন খেলা হবে না। নির্বাচনের মতোই নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ যেহেতু শেষ হয়ে আসছে, প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলে দিয়েছেন কীভাবে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন হবে। রাষ্ট্রপতি কোনো বিশেষ দলের স্বার্থে এটা করবেন না, তিনি সবাইকে নিয়েই একটি সার্চ কমিটি গঠন করবেন এবং একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।’

ওবায়দুল কাদের  বলেছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কোনো সুযোগ নেই। দেশে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হলেই কেবল নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে। এই লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি সবাইকে নিয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। এসময় ওবায়দুল কাদের হুশিয়ারি করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ সহিসংতা করলে জনগণকে নিয়ে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। কারণ, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে হবে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে কে আসলো আর না আসলো.... কারও জন্যে নির্বাচন বসে থাকবে না।’

দেশে অগণতান্ত্রিক শাসন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মিথ্যাচার’ দাবি করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির হাত ধরেই এদেশে ক্যু ও হত্যার রাজনীতি বৈধতা পেয়েছিল। করোনাকালে পৃথিবীর প্রায় সব দেশে সকল রাজনৈতিক দল একযোগে মানুষ বাঁচানোর রাজনীতি করছে। এমনকি যেসব দেশে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল বৈরিতা ছিল, তা দূর করে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের সরকার জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে যখন মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্য প্রাণপণ কাজ করছে, ঠিক তখনই বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি প্রতিদিন ভ্রান্ত-মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েই যাচ্ছে।’

সরকার জনবিস্ফোরণের ভয়ে ভীত : বিএনপি

এদিকে,  আজ মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন , ‘বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার জনবিস্ফোরণের ভয়ে ভীত। তাই তারা নানাভাবে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে হয়রানি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতরাতে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের বাড়িতে গ্রেফতার অভিযান চালায় পুলিশ। সবচেয়ে নিষ্ঠুর অমানবিকতা এই যে, নয়নকে বাড়িতে না পেয়ে তার বৃদ্ধ পিতা ও দুই চাচাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনসমর্থনহীন বিনাভোটের সরকার নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন-যন্ত্রকে কবজায় নিয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত করেছে। তারা বিএনপিসহ দেশের সব বিরোধী দলকে দমন করে বাকশালী শাসন বলবৎ রেখে জনগণকে শোষণ করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকে নস্যাৎ করতে সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ শাসনে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। মানবতা-বিরোধী সকল কর্মকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার তাদের বেসামাল অবস্থাকে সন্ত্রাসী কায়দায় সামাল দেওয়ার জন্যই বিএনপি’র নেতাকর্মীদেরকে দমন-নিপীড়নে লিপ্ত রয়েছে।’‘

জালিম সরকারের এসব অন্যায় ও কুমতলব তছনছ করে দেশে হারানো গণতন্ত্র, রাজনীতি ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে জনগণ এখন রাজপথে নামার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে’, বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।#

পার্সটুডে/এআরকে/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।