'মানুষের ভোটের অধিকার ছাড়া নির্বাচনে বিজয়ী হবার অগ্রিম ঘোষণা গণতন্ত্র নয়'
আবারও সাজানো নির্বাচন করতে চায় সরকারি দল: বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি
সরকারি দল আরও একবার এরকম নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে যে নির্বাচনে কেবল তাদেরকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, এমন আশংকার কথা জানিয়েছে বাম রাজনৈতিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে গতকাল দলীয় কার্যালয়ে শ্রেণী-পেশার নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, মানুষের ভোটের অধিকার ছাড়া নির্বাচনে বিজয়ী হবার অগ্রিম ঘোষণা গণতন্ত্র নয়। ক্ষমতাসীনদের হাবভাব দেখে বোঝা যায় ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ধারাবাহিকতায় আগামীতেও তারা এরকম নির্বাচন দেবেন যে নির্বাচনে তারা ছাড়া আর কেউ জিততে পারবে না। সাইফুল হক বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোন সুযোগ নেই দেশের মানুষের পাশাপাশি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তা এখন জানে। তিনি বলেন, সরকারি দলের নীতি-নির্ধারকেরা প্রতিদিন বিদ্বেষ আর ঘৃণার রাজনীতিকে যেভাবে উস্কানি দিয়ে চলেছেন তা পরিস্থিতিকে ক্রমে আরও বিরোধ-বৈরিতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, মন পরিষ্কার থাকলে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা কোন সমস্যা নয়।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী খেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকবর খান, রেডিও তেহরানকে বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করবেন। কিন্তু দেশের মানুষ দেখেছেন প্রশাসন, পুলিশ এবং দলীয় কর্মীদের দিয়ে আগের রাতেই বাক্স ভরে নিয়ে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখতে গিয়ে তারা প্রতারিত হয়েছে, অপমানিত হয়েছে। জনগণ আগামীতে এমনটি হতে দেবে না।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক রেডিও তেহরানকে বলেছেন, স্বৈরশাসন দীর্ঘদিন চালিয়ে যেতে চাইলে আরও বেশী স্বৈরাচারী হতে হবে শেখ হাসিনাকে। তবে, দেশের জনগণ, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং আন্তর্জাতিক মহল তা মেনে নেবেনা। ফলে আগামীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে উঠবে।
এর আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহ কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের আস্থা এবং দেশের ব্যাপক উন্নয়নের কারণে আগামী নির্বাচনে তাদের দল আবারো জয়ী হবে। সরকারি দলের কোনো কোনো নেতা এমনও বলেছেন, নির্বাচনে কোনো দল আসুক বা না আসুক সময়মত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবেনা।
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রসঙ্গে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের দাবী প্রসঙ্গে সরকারি দলের নেতারা স্পষ্ট করেই বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ধারনা এখন জাদুঘরে। আদালত এটি বাতিল করে দিয়েছে। এটি আর ফিরে আসবেনা। #
পার্সটুডে/এআরকে/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।