নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিতর্ক:
সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে: আইনমন্ত্রী
বাংলাদেশের নতুন নির্বচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করা হবে। করোনার কারণে এখন নতুন আইন করে ইসি গঠনের কোনো সুযোগ নেই।
গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেছেন, আমি এমন কথা বলছি না যে, ইসি গঠন করার জন্য যে আইনের কথা সংবিধানে আছে তা করব না, কিন্তু এই করোনা মহামারির পরিস্থিতিতে এবং ইসির মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হয়ে যাবে, সব কিছু মিলিয়ে এখন আইন করে ইসি গঠন করা সম্ভব নয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে বলে দিয়েছেন কিভাবে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।’
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এর আগে যখন সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তখন রাষ্ট্রপতি সব রাজনৈতিক দলের অভিমত নিয়েছিলেন। সবাই রাজি হওয়ার পরই সার্চ কমিটির গেজেট হয়। যদিও সার্চ কমিটির গেজেট আইন নয় কিন্তু এটা যেহেতু সবার কনসেন্স নিয়ে করা হয় ও রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে হয়েছিল, তাই সেটা কিন্তু আইনের কাছাকাছি। আমি এখনও বলছি এটা আইন নয়, আইনের কাছাকাছি।’

এর আগে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। এ সময় নিরপেক্ষ সরকার নয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
আইন প্রণয়নের কাজটি এড়িয়ে চলা 'রহস্যজনক'
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ আজ ঢাকার একটি দৈনিকে স্বনামে প্রকাশিত নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, “নির্বাচন কমিশন গঠন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও আইন প্রণয়নের কাজটি এড়িয়ে চলা 'রহস্যজনক'।
ড. তোফায়েল আহমেদ লিখেছেন, “সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, শর্টকাট মেথডে একটি সার্চ কমিটি তৈরি করে দায় এড়ানোর প্রবণতা চলছে। এই সার্চ কমিটি গঠন করে এমন লোকদের খুঁজে বের করা হচ্ছে, যাদের কেউ চেনে না। নির্বাচনী কাজের সঙ্গে আগে যাদের কোনো অভিজ্ঞতা বা সম্পৃক্ততা নেই, এমন লোকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভালো নির্বাচন আয়োজনে তাদের কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যাচ্ছে না বা তারা কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। গত দুটি কমিশনের কার্যক্রমে সবার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে।”
তিনি সরকারকে পরমর্শ দিয়েছেন, একটি নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার তার দায় এড়াতে পারে। কারণ, বর্তমান সংসদে তাদের মেজরিটি রয়েছে।
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান বিএনপি’র
এদিকে, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্যে কর্মকৌশল নির্ধারণের জন্য আজ (শুক্রবার) পেশাজীবী সংগঠনের নেতা, প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় বৈঠকে বসছেন বিএনপির নেতৃত্ব।
বিএনপির দপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের নেতাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আজ শুক্র ও শনিবার। বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে বৈঠক চলবে রাত পর্যন্ত।
জানা গেছে, দুই দিনে বিএনপিপন্থী অন্তত ২৫টি পেশাজীবী সংগঠনের নেতা, প্রতিনিধিরা মতবিনিময়ে অংশ নেবেন। তাঁদের আমন্ত্রণ জানিয়ে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার চিঠি দেওয়া হয়েছে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/ আশরাফুর রহমান/৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।