নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে ইসি মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যে বিভিন্ন মহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের সংবিধানে সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্বেও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে কোন আইন প্রণীত হয়নি। এ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, এমনকী খোদ নির্বাচন কমিশনও সরব হয়ে ওঠায় চাপের মুখে পড়েছে সরকার।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সরাসরি নাম উল্লেখ করেই একজন নির্বাচন কমিশনারকে “মানসিক রোগে আক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
গতকাল সোমবার রাজধানীতে নিজ দলের একটি ইউনিটের সম্মেলনে যোগ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “অবাক লাগে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের কমিশনার মাহবুব তালুকদার একটি দলের হয়ে যেভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন- তাতে মনে হয় ইসি নয়, তিনি নিজেই জটিল ও কঠিন মানসিক রোগে আক্রান্ত। বর্তমান ইসি’র মূল সমস্যা হচ্ছেন তিনি নিজেই।
এর আগে রোববার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, গত ৫০ বছরে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নিয়োগের আইন প্রণয়ন করা হয়নি। এটা বাধ্যতামূলক হলেও সব ক্ষমতাসীন সরকার এটা লঙ্ঘন করেছে। সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা থাকলে এই আইন করা অনস্বীকার্য। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সব দলের সমঝোতা ছাড়া এ আইন করা অসম্ভব।

এদিকে, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের যৌক্তিকতা মেনে নিয়ে আবারো বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইন প্রণয়ন করা সম্ভব নয়। তাই এবারও সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।রোববার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী ।
তবে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক এ প্রসঙ্গে গনমাধ্যমকে বলেছেন, সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে সার্স কমিটি করার অধিকার দেয়নি। তিনি সরকারের পছন্দ-পরামর্শ অনুযায়ী গঠিত একটি কমিটিকে কেবল অনুমোদন করেন। এর আগে সার্চ কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে এতদিন আইন করা হয় নাই। ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে কিভাবে নির্বাচন করবেন সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তটা হলো সার্চ কমিটি গঠন। দলগুলোর কাছ থেকে নাম নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। এই সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বিগত দু’টি নির্বাচনও হয়েছে ।
সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, দেশে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। অতীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আমলে জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।