ইরান-ভারত সম্পর্ক ঐতিহ্যগত এবং ঐতিহাসিক: ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখ্ত-রাভাঞ্চি বলেছেন, ইরান ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ঐতিহ্যগত এবং ঐতিহাসিক। গতকাল শুক্রবার ভারতের নিউ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৯তম ইরান-ভারত রাজনৈতিক পরামর্শ সভায় এ কথা বলেছেন তাখ্ত-রাভাঞ্চি।
তিনি গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে লিখেছেন, “আজ বিকেলে নয়াদিল্লিতে ১৯তম ইরান-ভারত রাজনৈতিক পরামর্শ সভায় অংশ নিয়েছি। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরির সাথে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।" তিনি আরও লিখেছেন, "চবাহার বন্দরসহ অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।"
তাখ্ত-রাভাঞ্চি আরও বলেছেন, তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথেও এরইমধ্যে ফলপ্রসু বৈঠক করছেন।
ইরানের এই মন্ত্রী তার পোস্টে আরও বলেছেন, "ইরান-ভারত সম্পর্ক ঐতিহ্যগত এবং ঐতিহাসিক। দুই দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নয়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"
গত বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ইরান-ভারত রাজনৈতিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরান ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক লেনদেন রয়েছে।
ভারত ২০১৬ সালে ইরানের একটি বন্দরের উন্নয়নে অর্থায়ন করতে সম্মত হয়, কিন্তু পরে আমেরিকা ইরানের সাথে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে গেলে প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে যায়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এমনটি হয়েছে।
ইরান এবং ভারত গত বছরের মে মাসে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যার অধীনে ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল (আইপিজিএল) কোম্পানিকে ১০ বছরের জন্য চবাহার বন্দর উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
চবাহার বন্দরটি ওমান সাগরে ইরানের পানিসীমায় অবস্থিত। এটিকে ভারত মহাসাগর এবং আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের পানিসীমা-বিহীন দেশগুলোর মধ্যে একটি প্রধান বাণিজ্য সংযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
ভারত চবাহার বন্দরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চায় যাতে তা চীনের অর্থায়নে পাকিস্তানে নির্মিত গোয়াদর ও করাচি বন্দরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
আমেরিকা ২০১৮ সালে ভারতকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে থেকে চবাহার বন্দর উন্নয়নে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে।#
পার্সটুডে/এসএ/৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।