১৫ মাসের গণহত্যামূলক যুদ্ধ বন্ধে তেল আবিবের সম্মতি
গাজা-যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত; রোববার থেকে কার্যকর
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধ করে বন্দি বিনিময় করার লক্ষ্যে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ইহুদিবাদী ইসরাইল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিনি জনগণ ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দৃঢ়তা ও অটল অবস্থানের কারণে এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে।
এ চুক্তির ফলে গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইলের ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ গণহত্যার আপাত অবসান ঘটবে। এই দীর্ঘ সময়ে অন্তত ৪৬,৭০৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা ও ১১০,২৬৫ গাজাবাসীকে আহত করেছে দখলদার ইসরাইল।
বুধবার রাতে প্রকাশিত বিবৃতিতে হামাস এ চুক্তিকে ফিলিস্তিনি জনগণ, প্রতিরোধ সংগঠনগুলো, মুসলিম উম্মাহ এবং সারাবিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের বিজয় বলে মন্তব্য করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইহুদিবাদী শত্রুর গণহত্যামূলক যুদ্ধ ও রক্তপাতের হাত থেকে গাজাবাসীকে রক্ষা করার দায়বদ্ধতা থেকে এ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে হামাস।
কাতারের রাজধানী দোহায় স্বাগতিক দেশের পাশাপাশি মিশর ও আমেরিকার মধ্যস্থতায় এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হয়। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আলে সানি বলেছেন, আগামী রোববার, ১৯ জানুয়ারি থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হবে।
তিনি বুধবার রাতে দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুদ্ধবিরতি কয়েক দফায় বাস্তবায়িত হবে এবং প্রথম দফার স্থায়ীত্ব হবে ছয় সপ্তাহ। এ সময়ে শত শত ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তির বিনিময়ে হামাস ৩৩ জন ইসরাইলি বন্দিকে মুক্ত করবে। চুক্তির দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের কলাকৌশল প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের সময় নির্ধারিত হবে বলে তিনি জানান। আলে সানি জানান, মিশর, আমেরিকা ও কাতারের প্রতিনিধিরা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি নজরদারি করবেন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে। বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করে বলেছেন, ২০২৪ সালের মে মাসে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব করেছিলেন সেই প্রস্তাবটিই এখন চূড়ান্ত হয়েছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ধাপেই গাজার মধ্যাঞ্চল থেকে ইসরাইলি বাহিনী সরে যাবে এবং দক্ষিণ গাজায় কোণঠাসা হয়ে পড়া ফিলিস্তিনিরা উপত্যকার উত্তরে নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। #
পার্সটুডে/এমএমআই/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।