জামায়াত ক্ষমতায় এলে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে নারীরা: রুহুল কবির রিজভী
https://parstoday.ir/bn/news/event-i156578-জামায়াত_ক্ষমতায়_এলে_সবচেয়ে_বেশি_বিপন্ন_হবে_নারীরা_রুহুল_কবির_রিজভী
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশের নারীরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
(last modified 2026-01-30T09:55:47+00:00 )
জানুয়ারি ৩০, ২০২৬ ১৫:৫৩ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভী
    সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভী

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশের নারীরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ (শুক্রবার) বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া একাধিক নারী এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, “আপনারা নারীদের পরিপূর্ণ বিকাশ চাননি। তারা একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিক, এটা আপনারা চান না। তারা একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিক, এটা আপনারা চান না। কিন্তু নারীদের দিয়ে আপনারা ভোট চাওয়াচ্ছেন এবং তাদের কাছ থেকেই ভোট চাইছেন। আপনাদের মধ্যেই গলদ রয়েছে। আপনারা যদি ক্ষমতায় আসেন, এ দেশে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে নারীরা “

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলামের বাসায় হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান রিজভী।

চিঠির বিষয়ে রিজভী বলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে, পাহাড়ের গুহা থেকে সাধারণত দস্যুরা অথবা জঙ্গিরা এ ধরনের চিঠি পাঠায়।”

সারা দেশে বিরোধী মতের নারীদের টার্গেট করে সাইবার বুলিং করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে বোনদের অশ্লীল গালিগালাজ করা হচ্ছে। তাদের বট বাহিনী আর মব বাহিনী মিলে সমাজকে এক ভয়ংকর অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ভোট পাওয়ার জন্য জামায়াত নানা ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং তাদের একেকজনের মুখ থেকে একেক ধরনের কথা বেরিয়ে আসছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য সর্বোচ্চ বাজে ও ইতরশ্রেণির শব্দ ব্যবহার করছে।

হুমকি দিয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম বলেন, কয়েকজন লোক এসে বাসার দারোয়ানের কাছে চিঠি দিয়ে গেছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তবে আমি বিশ্বাস করি, চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে আমার মতো নারী, যারা আমার আশপাশে বসে আছেন অথবা গার্মেন্টসে যে মেয়েটি কাজ করেন, তাদের থামিয়ে রাখা সম্ভব না।

তিনি বলেন, তারা যে নারীবিরোধী, তা আমি বলব না। তারা সেই নারীদের বিরোধী, যারা একটি ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে। তারা নারীকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার জন্য, জান্নাতের টিকিট বিক্রি করার জন্য।

আওয়ামী লীগের সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৫ মাস কারাবন্দি থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা বলেন, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি ভিন্ন আরেকটি রাজনৈতিক দলের শত্রু হয়ে গেছেন। জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাদের কাছে একমাত্র তাদের দলের নারীরাই সেরা, পর্দানশীল, যোগ্য ও চরিত্রসম্পন্ন। কিন্তু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শী নারীরা তাদের কাছে চরিত্রহীন, অযোগ্য এবং ইসলামবিদ্বেষী।

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের একটি ‘স্পেশাল ফোর্স’ বট বাহিনী আছে। তারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে। তাদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে বিরোধী দলের সেই সব নারীরা, যারা নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলে। ওপেনে এসে হুমকি দেয়, ইনবক্সে এসে হুমকি দেয়, অনলাইনে সাইবার বুলিং করে। চরিত্রহীন, অযোগ্য এবং ইসলামবিরোধী ট্যাগ দেয়, যাতে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয় এবং ভয় পায়। যাতে নারীরা ঘরে বসে পড়ে। এই কাজগুলো তারা নারীদের মানসিকভাবে অসহায় ও হেনস্তা করার জন্য করে।

কুবরা বলেন, তাদের কাছে একমাত্র জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার নারীরাই ‘সেফ’। তারাই পর্দানশীল। অন্য দলের নারীরা তাদের কাছে কোনোভাবেই নিরাপদ না।#

পার্সটুডে/এমএআর/৩০