প্রথমবার বিরোধীদলে জামায়াত
২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরল বিএনপি, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান
-
তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অপরদিকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে সংসদের বিরোধী দল হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি এবং স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসন।
দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি আসনে, এনসিপি ৬টি আসনে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন ১টি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে।
উল্লেখ্য, দুইটি আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। আসন দুটি হলো—চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪। এছাড়া প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত করা হয়।
ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
সারা দেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। নির্বাচনে ৭৫ শতাংশের বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে কমিশনের সূত্র অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।
গতকাল গণতন্ত্রে উত্তরণের ভোট উৎসব অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় সংস্কারসম্পর্কিত গণভোট। দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হয়েছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলেও রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে ভালো করেছে।
জুলাই বিপ্লবপরবর্তী মুক্ত পরিবেশে গতকাল অনুষ্ঠিত নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ সংসদ নির্বাচন ঈদ উৎসবে পরিণত হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশ গণতন্ত্রে উত্তরণের চূড়ান্ত ধাপ পার করেছে। কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও অঘটন ছাড়াই অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ঈদ উৎসব বলে আখ্যায়িত করেন ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়েছে। এ নির্বাচন মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ভোট দিয়ে সবাইকে ‘ঈদ মোবারক’ জানান।
সারা দেশে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে টানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনা করে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। পরে নির্বাচন কমিশন থেকেও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সর্বশেষ ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলে সেই মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে।
এর আগে দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৯৬ সালেও স্বল্প সময়ের জন্য সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী-এ ঘোষণা আগেই দিয়েছিল বিএনপি।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৩