ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের হুঁশিয়ারি: ‘হরমুজ প্রণালি আগের অবস্থায় ফিরবে না’
-
হরমুজ প্রণালী
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে এমন কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে যা আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এই পরিবর্তন স্থায়ী হয়ে গেছে, কারণ পারস্য উপসাগরে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরানি বাহিনী তাদের অপারেশনাল প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি’র নৌবাহিনীর কমান্ড জানায়, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে বিদেশি আধিপত্যের যুগ চূড়ান্তভাবে শেষ হয়ে গেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহ এমন এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহিরাগত শক্তিগুলো আর ইরানের সামুদ্রিক পরিবেশে নিজেদের ইচ্ছামতো প্রভাব বিস্তার করতে বা শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যে সমন্বিত পরিকল্পনার কথা আগে ঘোষণা করেছিলেন, তা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগরে একটি স্বদেশভিত্তিক নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেরাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং বাইরের শক্তির ‘উস্কানিমূলক ও অবৈধ উপস্থিতি’ থাকবে না।
এই প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে নৌবাহিনীর মোতায়েন বৃদ্ধি, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলা—যার লক্ষ্য ইরানের জলসীমা সুরক্ষা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যদি এই নতুন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করে বা আগের মতো সামরিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে ইরান দ্রুত, কঠোর ও ব্যাপক জবাব দেবে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখে, তাহলে ইরানের ওপর ‘জাহান্নাম’ নেমে আসবে এবং তারা ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, মঙ্গলবারই হামলার দিন নির্ধারিত—যেখানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আঘাত হানা হবে।
ট্রাম্পের এই হুমকির পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই বিবৃতি দেওয়া হলো। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সংঘাত অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৬