লালমনিরহাট, মেহেরপুর ও নওগাঁ সীমান্তে বিএসফের পুশ ইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160072-লালমনিরহাট_মেহেরপুর_ও_নওগাঁ_সীমান্তে_বিএসফের_পুশ_ইনের_চেষ্টা_রুখে_দিল_বিজিবি
বাংলাদেশের তিনটি ভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৫৬ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের (জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার) চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় সীমান্তবাসীর যৌথ ও কঠোর প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত রাতের আঁধারে বিএসএফ তাদের নিজস্ব নাগরিকদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
(last modified 2026-06-06T09:22:31+00:00 )
জুন ০৬, ২০২৬ ১৫:১৭ Asia/Dhaka
  • লালমনিরহাটের সীমান্ত  দিয়ে ৩৩ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ
    লালমনিরহাটের সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ

বাংলাদেশের তিনটি ভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৫৬ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের (জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার) চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় সীমান্তবাসীর যৌথ ও কঠোর প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত রাতের আঁধারে বিএসএফ তাদের নিজস্ব নাগরিকদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

শুক্রবার (৫ জুন) ভোর থেকে শুরু করে শনিবার (৬ জুন) সকাল পর্যন্ত লালমনিরহাট, মেহেরপুর ও নওগাঁর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

লালমনিরহাটে ৩৩ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা ও দিনভর নাটকীয়তা:

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার পাঁচটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৩৩ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এর মধ্যে হাতীবান্ধার বড়খাতা বিওপি এলাকায় ১১ জন, পাটগ্রামের পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি এলাকায় ১০ জন এবং আদিতমারীর দীঘলটারী সীমান্তে ১২ জন ছিলেন।

বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা খবর পেয়ে দ্রুত সীমান্তে প্রতিরোধ গড়ে তুললে বিএসএফের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে বিএসএফ দিনভর ওই ৩৩ জনকে শূন্যরেখায় কড়া রোদে আটকে রাখে। কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ভারতীয় বলে স্বীকার করলেও বিএসএফ উল্টো বিজিবির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে। অবশেষে বিজিবির কঠোর বার্তার মুখে শুক্রবার গভীর রাতে সীমান্তের বাতি নিভিয়ে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ। ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।

সাপাহার সীমান্ত এলাকায় পুশ ইনের চেষ্টা

নওগাঁয় ১৭ জনকে নিয়ে ১৯ ঘণ্টার টানটান উত্তেজনা:

এদিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি পিলার এলাকা দিয়ে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী ও ৫টি শিশুসহ মোট ১৭ জনকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি দাবি করলেও পতাকা বৈঠকে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

নওগাঁ ব্যাটালিয়ান (১৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, শুরুতে মানবিক কারণে তাদের শূন্যলাইনে থাকতে দেওয়া হলেও সন্ধ্যার পর নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দিয়ে ওই ১৭ জনকে ভারতের ভেতরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিএসএফের জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তিরা অনেক কান্নাকাটি করছিলেন।

মেহেরপুরে এখনও সীমান্তে অবস্থান:

শনিবার (৬ জুন) ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া আন্তর্জাতিক পিলারের (১৪০/৫ এস) কাছে দুই পুরুষ, দুই নারী, একজন বৃদ্ধ ও একটি শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার একাংশ খুলে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেনি। তেঁতুলবাড়ীয়া বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার হাবিবুর রহমান জানান, বিজিবি হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে পুশ-ইন প্রতিরোধ করছে এবং ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বিএসএফকে আহ্বান জানাচ্ছে। এই বিষয়ে বিএসএফকে চিঠি দেওয়া হলেও সর্বশেষ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা কোনো সাড়া দেয়নি এবং ওই ছয়জন এখনো সীমান্তরেখায় অবস্থান করছেন।

সার্বিক পরিস্থিতিতে তিন সীমান্তেই বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে বলে বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/৬