৩ দিন পর পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১০ ভারতীয়কে সরিয়ে নিল বিএসএফ
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে দীর্ঘ প্রায় ৭২ ঘণ্টার চরম উত্তেজনা ও মানবিক সংকটের পর, পুশ-ইনের শিকার নারী, শিশুসহ ১০ জনকে অবশেষে নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার দিবাগত রাত ২টা ৪০ মিনিটে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের নিরাপত্তা বাতি (সিকিউরিটি লাইট) বন্ধ করে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ওই ১০ জনকে গাড়িতে তুলে নিজেদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দুর্ভোগ
গত শুক্রবার ভোরে বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক বাধার কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। এর ফলে পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিনটি শিশুসহ ওই ১০ জন সীমান্তের জিরো লাইনে একটি ফসলি জমির সরু আলে অবস্থান করতে বাধ্য হন।
বিগত তিন দিন ধরে কখনো প্রচণ্ড রোদ, আবার কখনো বজ্রবৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এই অসহায় পরিবারটিকে। বৃষ্টির পানি জমে থাকা সরু আলে তাদের এই মানবেতর অবস্থা দেখে স্থানীয়দের মাঝেও তীব্র ক্ষোভ ও সহানুভূতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসিবুল ইসলাম বলেন, "তিন দিন ধরে রোদ-বৃষ্টিতে ওখানে থাকা বাচ্চা আর নারীদের কষ্ট দেখে খুবই খারাপ লাগছিল। রাতে হালকা বৃষ্টির সময় বিএসএফ তাদের নিয়ে গেছে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষও স্বস্তি পেয়েছে।"
বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক ও বিজিবির শক্ত অবস্থান
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে গত তিন দিনে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে তিন দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিজিবি শুরু থেকেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিল যে কোনো ধরনের অবৈধ 'পুশ-ইন' গ্রহণযোগ্য নয়। বিজিবির পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও চাপের মুখে অবশেষে রোববার গভীর রাতে বিএসএফ তাদের ফেরত নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
আজ সোমবার সকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিলেও সীমান্তে পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সতর্কাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৮