শোকজের জবাবের আগেই ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতাকে বহিষ্কার করলেন মমতা
-
অরূপ-রথীন-ফিরহাদদের দল থেকে তাড়ালেন মমতা
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন ভাঙন ও নাটকীয় মোড় তৈরি হয়েছে। দলের অন্তত দুই ডজন হেভিওয়েট নেতা ও লোকসভার সংসদ সদস্য (এমপি) দল ছাড়ার পর এবার ফিরহাদ হাকিমসহ শীর্ষ ৭ নেতাকে বহিষ্কার করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল (কালীঘাট শিবির)।
গতকাল সোমবার রাতে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই শোকজের উত্তর দেওয়ার সময়টুকুও না দিয়ে, আজ মঙ্গলবার দুপুরেই তাঁদের দল থেকে তাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বহিষ্কৃত আট নেতার তালিকায় রয়েছেন— ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী।
মমতা-অভিষেককে বাদ দিয়ে ‘আসল’ তৃণমূলের কমিটি
এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে। সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল’ তৃণমূলের একটি বিশেষ অধিবেশন বসে। সেই অধিবেশনে দলের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণা করা হয়, যেখানে দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বর্তমান সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো জায়গাই হয়নি।
উল্টো, মমতার অত্যন্ত স্নেহধন্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে এই ‘আসল’ তৃণমূলের চেয়ারপার্সন এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ চারজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
ছায়াসঙ্গীদের দলবদল ও কালীঘাটের কড়া পদক্ষেপ
সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, কলকাতা পৌরসভার সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও জাভেদ খানের মতো শীর্ষ নেতারা তাঁদের সঙ্গেই আছেন। এমনকি রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়া স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও সাবিনা ইয়াসমিনদেরও ঋতব্রতের পাশে মঞ্চে বসে থাকতে দেখা যায়। আগামী দিনে এই শিবিরে আরও বড় বড় নাম যুক্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ঋতব্রত।
নিজেদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহকর্মীদের এই প্রকাশ্য ‘বিদ্রোহ’ ও দলবদল নিশ্চিত হওয়ার পর আর কালবিলম্ব করেনি কালীঘাট শিবির। আজ দুপুরের মধ্যেই তাঁদের সবাইকে বহিষ্কার করে কঠোর সাংগঠনিক বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘর গোছাতে একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত
এই চরম ভাঙন ও অস্তিত্বের সংকট সামাল দিতে তৃণমূলের মূল শিবির একাধিক বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে দলে তাড়াহুড়ো করে কোনো পদ দেওয়া হবে না; সবদিক খতিয়ে দেখে ধীরে-সুস্থে পদাধিকারী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি, ‘আইপ্যাক’-এর মতো কোনো নির্বাচনী এজেন্সির ওপর শতভাগ নির্ভর না করে আগের মতো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ওপরই জোর দেবে কালীঘাট। জনসংযোগ বাড়াতে এখন থেকে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৭টা পর্যন্ত কালীঘাটে মমতার বাসভবনে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি চলবে। তবে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি নিয়ে আপাতত আদালত বা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছে না মূল তৃণমূল শিবির।
১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে শূন্য থেকে তৃণমূল গড়েছিলেন, ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক ভাঙন তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তেমনই এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।#
পার্সটুডে/এমএআর/২৩