দক্ষিণ সিরিয়ায় দুইজনকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী
দক্ষিণ সিরিয়ায় ফের ইসরায়েলি হামলা; আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চাইল এইচটিএস
-
অধিকৃত গোলানের সীমান্তের পাশে সিরিয়ার ভেতরে ইসরায়েলি সেনাদের টহল দেয়ার দৃশ্য। (ফাইল ছবি, ২০২৫)
পার্সটুডে: সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের নতুন করে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এসব আক্রমণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং দেশে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সোমবার সিরিয়ার ক্ষমতাসীন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) প্রশাসনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কুনেইত্রা ও দারা প্রদেশে ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণের নিন্দা জানায়।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, এসব হামলায় বেসামরিক জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, “এসব হামলা সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
এতে আরও বলা হয়, এসব সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং অধিকৃত গোলান মালভূমির যুদ্ধবিরতি রেখা নিয়ন্ত্রণকারী ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নকরণ (Disengagement) চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানায়, ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান দেশে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে এবং বহু বছর ধরে সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “অব্যাহত হামলা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে এবং পুরো অঞ্চলে আরও উত্তেজনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।”
এছাড়া ইসরায়েলের বারবার সংঘটিত লঙ্ঘন বন্ধে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার এবং বিদ্যমান চুক্তিগুলোর প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় এইচটিএস।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ সিরিয়ায় দুইজনকে হত্যার দাবি করার পর এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। ইসরায়েলের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি সিরিয়ার ভূখণ্ডে তাদের ঘোষিত তথাকথিত “নিরাপত্তা অঞ্চলে” অস্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করেছিল।
এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী গোলান মালভূমির কাছে একটি সিরীয় গ্রামেও গোলাবর্ষণ করেছে। সিরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা সানা (SANA) জানায়, দারা প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের আবিদিন গ্রামকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি কামান হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ইসরায়েল দক্ষিণ সিরিয়ায় তাদের সামরিক আগ্রাসন আরও সম্প্রসারণ করছে।
২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরায়েল ঘোষণা করে যে, ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নকরণ চুক্তি আর কার্যকর নয় এবং এরপর তারা সীমান্তের সিরীয় অংশের বাফার জোনে সেনা মোতায়েন করে।
এরপর থেকে এইচটিএস প্রশাসন বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, ইসরায়েল সিরিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চলের আশপাশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং নতুন নতুন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।