আমরা ব্যর্থ হয়েছি; মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার সময় হয়েছে: মার্কিন বিশ্লেষক
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160884-আমরা_ব্যর্থ_হয়েছি_মধ্যপ্রাচ্য_ছাড়ার_সময়_হয়েছে_মার্কিন_বিশ্লেষক
পার্সটুডে- মার্কিন কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সিনিয়র বিশ্লেষক স্টিভেন কুক মার্কিন পত্রিকা ‘ফরেন পলিসি’-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্বীকার করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী সামরিক অভিযান কোনো কৌশলগত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক চুক্তিটি এটাই প্রমাণ করে যে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়নি।
(last modified 2026-06-29T15:22:49+00:00 )
জুন ২৯, ২০২৬ ২১:১৯ Asia/Dhaka
  • ডোনাল্ড ট্রাম্প
    ডোনাল্ড ট্রাম্প

পার্সটুডে- মার্কিন কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সিনিয়র বিশ্লেষক স্টিভেন কুক মার্কিন পত্রিকা ‘ফরেন পলিসি’-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্বীকার করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী সামরিক অভিযান কোনো কৌশলগত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক চুক্তিটি এটাই প্রমাণ করে যে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়নি।

ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ‘আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার সময় হয়েছে’ শিরোনামের এই নিবন্ধে কুক, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, উভয় পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবে, ইরান ৬০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড়ের অধীনে তার তেল রপ্তানি করতে পারবে এবং হরমুজ প্রণালীতে যান চলাচল পুনরায় শুরু হবে। তবে, এই প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত সময়কালের জন্যই কার্যকর থাকবে এবং এর পরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের খরচের জন্য একটি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

বিশ্লেষক প্রশ্ন করেছেন, “আমেরিকা ঠিক কী কারণে এই যুদ্ধে প্রবেশ করল?” চুক্তিটি সম্পর্কে এ পর্যন্ত যা প্রকাশিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে বলা যায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে আমেরিকানরা, ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক অংশীদাররা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ভোক্তারা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে ছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতি বলেছেন, ইরান যদি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র “মধ্যপ্রাচ্যের অভিভাবক” হবে। তবে তিনি এও বলেন, এই যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল সম্ভবত আমেরিকার প্রভাব বাড়াবে না, বরং এই অঞ্চল থেকে ওয়াশিংটনের ক্রমান্বয়িক প্রত্যাহার হবে।

কুক উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালে এই অঞ্চল থেকে ব্রিটিশ বাহিনী প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে লন্ডনের স্থান দখল করে নেয়, কিন্তু ১৯৯০ সালে ইরাক কুয়েত আক্রমণ করার আগে পর্যন্ত ওয়াশিংটনের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি গড়ে ওঠেনি। বিশ্লেষকের মতে, এই অঞ্চলে আমেরিকার ৩৫ বছরের রেকর্ড সফল হয়নি। তিনি বলেছেন, ইরাকি সমাজের কাঠামো পরিবর্তন এবং মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা-পছন্দের শাসনব্যবস্থা ছড়িয়ে দেওয়ার ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টা সফল হয়নি এবং ইরানের ব্যাপারে ট্রাম্পের নীতিও ব্যর্থ হয়েছে।

স্টিভেন কুক আরও দিয়ে বলেছেন, বর্তমান আমেরিকার রাজনৈতিক আবহে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা কমানোর জন্য একটি ক্রমবর্ধমান ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। লেখকের মতে, ডেমোক্র্যাটরা একটি জ্বালানি রূপান্তর এবং এই অঞ্চলের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করতে চাইছে এবং অনেক রিপাবলিকানও প্রশ্ন তুলছেন যে, বিশ্বের বৃহত্তম তেল ও গ্যাস উৎপাদক হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কেন পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাবে।

বিশ্লেষক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও হ্রাস পাবে।

নিবন্ধের অন্য অংশে বলা হয়েছে, আমেরিকার আঞ্চলিক মিত্ররাও নতুন পরিস্থিতির সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে বাধ্য হবে। লেখক বিশ্বাস করেন যে, এই অঞ্চলের দেশগুলো সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কেনা অব্যাহত রাখবে এবং একই সাথে তাদের সামরিক সরঞ্জামের উৎস বৈচিত্র্যময় করার দিকে অগ্রসর হবে।

লেখক উপসংহারে বলেছেন, পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের বিকল্প বিবেচনা করে যুদ্ধে প্রবেশ করা থেকে বিরত ছিলেন কিন্তু ট্রাম্প এই ফাঁদে পা দিয়েছেন।

তিনি সবশেষে ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্দেশে বলেন, তাদের এমন একটি যুগের জন্য প্রস্তুত হতে হবে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আর পালন করবে না এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক ব্যবস্থা তার সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।