এই চুক্তি ইসরায়েলের প্রতি অকারণ ছাড় এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের পিঠে ছুরি মারা: হিজবুল্লাহ
হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে লেবাননে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা: প্রতিবেদন
-
লেবাননের হিজবুল্লাহর লোগো বা প্রতীক
পার্সটুডে: লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত এবং বিতর্কিত মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পেন্টাগন লেবাননে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওই চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট মঙ্গলবার জানায়, চুক্তিটি লেবানন ও ইসরায়েল উভয় পক্ষ যথাযথভাবে পালন করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য লেবাননে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনারা ইসরায়েল অধিকৃত এলাকাতেও মোতায়েন থাকবে।
পত্রিকাটি আরও জানায়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর কর্মকর্তারা তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনা সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট করবেন। তবে সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই চুক্তি তদারকিতে সরাসরি কোনো ভূমিকা পালন করবেন না।
এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হল এমন সময়ে, যখন অ্যাডমিরাল কুপার সোমবার বৈরুত সফর করেছেন। সেখানে তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং সেনাপ্রধান রোডলফ হাইকালের সঙ্গে বৈঠক করে চুক্তির নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ধারাগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করেন। পরে সেন্টকম জানায়, এই সফরের অংশ হিসেবে কুপার ইসরায়েলও সফর করেছেন।
এর আগে লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত চুক্তিটিকে লেবাননের স্বার্থরক্ষাকারী কোনো সমঝোতা নয়, বরং দেশটির ওপর চাপিয়ে দেওয়া শর্তের সমষ্টি বলে মন্তব্য করেন।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের আগে লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ এবং অন্যান্য "রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠী"-কে নিরস্ত্র করার দায়িত্ব লেবাননের সেনাবাহিনী পালন করবে।
হিজবুল্লাহ এই চুক্তিকে "অকার্যকর ও বাতিল" ঘোষণা করে সতর্ক করেছে যে, এটি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে।
সংগঠনটি সোমবার আবারও জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই আত্মরক্ষার অধিকার তারা সংরক্ষণ করে।
হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেমও মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিকে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রতি "অকারণ ছাড়" এবং "প্রতিরোধ আন্দোলনের পিঠে ছুরি মারা" বলে অভিহিত করেছেন।
এর পরিবর্তে তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নের আহ্বান জানান, যার প্রথম ধারায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ ও শত্রুতা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
ইরান বারবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ১৭ জুন স্বাক্ষরিত তেহরান-ওয়াশিংটন চুক্তি অনুযায়ী ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে লেবাননের ওপর হামলা বন্ধ করতে এবং দখলকৃত সব এলাকা থেকে সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য করতে।
তেহরানের অবস্থান হলো, লেবানন-সংক্রান্ত ধারাসহ সমঝোতা স্মারকের সব বিধান পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।#
পার্স টুডে/এমএএইচ/০১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।