শহীদ সর্বোচ্চ নেতার সম্মানে ইরানে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী নানা ইউরোপীয় সংস্থার দূত ও ব্যক্তিত্ব
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160988-শহীদ_সর্বোচ্চ_নেতার_সম্মানে_ইরানে_সাম্রাজ্যবাদবিরোধী_নানা_ইউরোপীয়_সংস্থার_দূত_ও_ব্যক্তিত্ব
পার্সটুডে: ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (র)'র জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কর্মী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং ইসলামি কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধিদ দল তেহরানে পৌঁছাতে শুরু করেছে। বহুদিনব্যাপী এই জানাজায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। 
(last modified 2026-07-03T14:15:53+00:00 )
জুলাই ০৩, ২০২৬ ১৬:৩০ Asia/Dhaka
  • ইরানের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী  (র)
    ইরানের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (র)

পার্সটুডে: ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (র)'র জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কর্মী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং ইসলামি কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধিদ দল তেহরানে পৌঁছাতে শুরু করেছে। বহুদিনব্যাপী এই জানাজায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। 

ইতালির সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জোটের সদস্য, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সাংবাদিক, যুদ্ধবিরোধী শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ইসলামি বিপ্লবের সমর্থকদের নিয়ে গঠিত এসব প্রতিনিধিদল ইরানে পৌঁছাতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় সরকারগুলোর প্রতি ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়াই তারা ইরানে আসছেন। 

একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ইমাম খামেনেয়ীর জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নিতে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী ও বুদ্ধিজীবীরা ইরানে এসেছেন। তাদের উদ্দেশ্য ইরানের জনগণ এবং তাদের ভাষায় ‘বড় ও ছোট শয়তানের জোট’-এর বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা।

প্রতিনিধিদলে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যারা শহীদ নেতাকে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে স্বাধীনতা, আধিপত্যবাদের বিরোধিতা এবং নিপীড়িত জাতিগুলোর সমর্থনের প্রতীক হিসেবে দেখে আসছেন।

আরেকটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন ইসলামি কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সেখানে বসবাসরত প্রবাসী ইরানি এবং ইরাকে ও তুরস্কে জন্ম নেওয়া নেদারল্যান্ডস-প্রবাসী ব্যক্তিদের জন্যও ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।

একই ধরনের উদ্যোগ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের কর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরানের পথে রয়েছেন।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিভিন্ন শহরে গড়ে ওঠা এই তৃণমূল উদ্যোগ জাতীয় স্বাধীনতা ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বিষয়ে শহীদ নেতার দর্শনের বৈশ্বিক প্রভাবেরই প্রতিফলন।

অংশগ্রহণকারীরা কোনো সরকারি প্রতিনিধিদল হিসেবে নয়; বরং বিভিন্ন জাতি ও আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে আসছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে শহীদ নেতাকে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কণ্ঠস্বর হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন।

ইরানের সংস্কৃতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠান কভার করতে প্রায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি ইরানে অবস্থান করবেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি ইউরোপীয় সরকারগুলোকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “এই সিদ্ধান্তের কারণ একেবারেই স্পষ্ট। যারা এই জানাজায় অংশ নেবেন, তারা ইতিহাসের সঠিক অবস্থান বেছে নিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “অতীতের যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সংঘাত—উভয় ক্ষেত্রেই ইউরোপীয় সরকারগুলো ইতিহাসের ভুল পাশে অবস্থান নিয়েছে।”

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ব্রিটেন, ডেনমার্ক, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং অস্ট্রিয়ার বহু সাংবাদিক ইতোমধ্যে ইরানে পৌঁছেছেন অথবা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেহরানে এসে জানাজার অনুষ্ঠান কাভার করবেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এই ব্যাপক উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিদায় অনুষ্ঠানটি একটি জাতীয় আয়োজনের সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সমসাময়িক ইতিহাসের অন্যতম অস্থির সময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নেতৃত্ব-দেয়া একজন নেতাকে বিদায় জানাতে বিশ্বের দৃষ্টি এখন ইরানের দিকে নিবদ্ধ।

বাকায়ি বলেছেন, “বিদায় ও জানাজার অনুষ্ঠান শুধু ইরানি জাতির জন্য নয়; একইসঙ্গে গোটা অঞ্চলের জনগণ, মুসলিম বিশ্ব এবং বিশ্বের সব স্বাধীনচেতা মানুষের জন্যও একটি ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।”

তিনি জানান, “শুক্রবার সকাল ৮টায় বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হবে এবং দুপুর পর্যন্ত সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ থাকবে। এরপর দুপুর দেড়টা বা দুইটা থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন।”

তিনি আরও বলেছেন, ইরান প্রায় ১০০টি দেশের মেহমানদের স্বাগত জানাবে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপ্রধান, পার্লামেন্টের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশেষ দূত, বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

এর আগে জাতীয় জানাজা আয়োজন কমিটির সচিব আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান জানান, ৩০টিরও বেশি দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তা এবং ৯০টিরও বেশি দেশের আলেম, বিজ্ঞানী ও ধর্মীয় নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।

দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে বিবেচিত এই বহুদিনব্যাপী কর্মসূচি শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা বা নামাজ কমপ্লেক্সে  শহীদ সর্বোচ্চ নেতার লাশ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।

সোমবার পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলবে। এ সময় তেহরানে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোম, ৮ জুলাই ইরাকে শোক-যাত্রা ও সমাবেশের পর ৯ জুলাই মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ইরাকেও বাগদাদ, কারবালা এবং নাজাফে শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধের প্রথম দিন, মধ্য তেহরানে তাঁর বাসভবনে ৮৬ বছর বয়সে শহীদ হন।#
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/০৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।