ইসরায়েলি বিমান ও কামানের হামলা অব্যাহত
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও চার ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক শহীদ
-
গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত
পার্সটুডে: গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর বিমান ও কামান হামলায় বৃহস্পতিবার আরও চার ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন। ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা নামমাত্র যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে দিয়ে ইসরায়েল গাজার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার ভোরে গাজা সিটির পশ্চিমে বন্দর এলাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালালে নিহাদ রিয়াদ আরুকি শহীদ হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনাকে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে গাজা সিটির দক্ষিণ-পূর্বে জেইতুন এলাকার দাওলা মোড়ের কাছে ইসরায়েলি কামান হামলায় ইব্রাহিম রাদওয়ান খাত্তাব শহীদ হন। এ হামলার সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলি ট্যাংক সিক্কা সড়ক ধরে জেইতুন এলাকার পূর্বাংশে অগ্রসর হয় এবং সামরিক নজরদারি হেলিকপ্টার থেকে শহরের পূর্বাঞ্চলে গুলি চালায়।
গাজার বিভিন্ন এলাকায়ও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইহুদি-বর্ণবাদ-ভিত্তিক শাসকগোষ্ঠীর দখলদার সেনারা। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, জেইতুনে কামান হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে গাজা সিটির উত্তর-পূর্বের তুফাহ এলাকায় সানফুর মোড়ের কাছে ইসরায়েলি হামলায় মুহাম্মদ আহেদ আল-রিফি ও সুহাইল সালাহ আহদেইবি শহীদ হন।
মধ্য গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দেইর আল-বালাহর বারাকা এলাকায় একটি আবাসিক বাড়ি এবং নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে আরেকটি বাড়িতে বোমা হামলা চালায়, এতে একাধিক বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন। একই সঙ্গে আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরেও বিমান হামলা চালানো হয় এবং শিবিরটির উত্তরাংশ ও আল-মাগাজি শিবিরের পূর্বাঞ্চলে কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়।
কামান হামলা ও স্থল অভিযান জোরদার
দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন এলাকায়ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। খান ইউনিসের উত্তরে আল-কারারা শহরে গোলাবর্ষণ করা হয় এবং হামাদ সিটির পূর্বে সালাহ আল-দীন সড়কের আশপাশে হামলা চালানো হয়। দেইর আল-বালাহর পূর্বে আবু আল-আজিন এলাকায় ধোঁয়ার গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। একই সময়ে গাজা সিটির উত্তরের বেইত লাহিয়ায় আবু তামাম স্কুলের আশপাশে ইসরায়েলি সামরিক যান অগ্রসর হয়।
যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিক লঙ্ঘন
ইসরায়েলি হানাদার বাহিনী বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে ধারাবাহিক বিমান ও কামান হামলা চালিয়ে এবং তথাকথিত "ইয়েলো লাইন" এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রেখে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে। একই সঙ্গে পণ্য, মানবিক সহায়তা এবং বেসামরিক মানুষের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বহাল থাকায় অবরুদ্ধ গাজার মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১,১২৭ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন এবং ৩,৬১৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮০০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত মোট প্রায় ৭৩,২৫০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১,৭৩,৭২৭ জন আহত হয়েছেন। এই মানবিক বিপর্যয় এখনও অব্যাহত রয়েছে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।