১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াল খেলাফত মজলিস, একক কর্মসূচির ঘোষণা
https://parstoday.ir/bn/news/event-i161670-১১_দলীয়_ঐক্যের_কর্মসূচি_থেকে_সরে_দাঁড়াল_খেলাফত_মজলিস_একক_কর্মসূচির_ঘোষণা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের যৌথ কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে অন্যতম শরিক দল খেলাফত মজলিস। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঐক্য মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল এবং নির্বাচন শেষ হওয়ায় এর কার্যকারিতা বাস্তবে শেষ হয়ে গেছে।
(last modified 2026-07-25T11:30:52+00:00 )
জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৭:২৫ Asia/Dhaka
  • ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াল খেলাফত মজলিস, একক কর্মসূচির ঘোষণা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের যৌথ কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে অন্যতম শরিক দল খেলাফত মজলিস। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঐক্য মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল এবং নির্বাচন শেষ হওয়ায় এর কার্যকারিতা বাস্তবে শেষ হয়ে গেছে।

আজ (শনিবার) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানায়, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ১১ দলীয় ঐক্যের কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিলেও এখন থেকে এই জোটের আর কোনো কর্মসূচিতে তারা অংশ নেবে না। তবে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

খেলাফত মজলিস আরও জানায়, দলটি এখন থেকে নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে। তবে অন্যান্য দলের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

দলটির নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী বলেন, এখন থেকে খেলাফত মজলিস এককভাবে কর্মসূচি পালন করবে। এসব কর্মসূচিতে অন্য দলের নেতারা অংশ নিতে পারবেন এবং খেলাফত মজলিসের নেতারাও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য দলের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সমালোচনা

শূরার অধিবেশনে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। দলটির নেতারা অভিযোগ করেন, গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায় ও জুলাই সনদকে পাশ কাটিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যা জনগণের রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তারা বলেন, জনগণ এমন সংবিধান সংস্কার চায়, যেখানে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এ জন্য সংসদে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ও শাপলা গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দাবি জানানো হয়।

খেলাফত মজলিসের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা বা পাশ কাটানোর চেষ্টা করলে সরকার রাজনৈতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বে।

সেপ্টেম্বরে গণসমাবেশ, স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরে গণসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস। এছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যথাসম্ভব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নীতিগত সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি।

অধিবেশনে শোক প্রস্তাবসহ মোট চারটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এতে দলের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসাইন, সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসানসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও মজলিসে শূরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।#

পার্সটুডে/এমএ‌আর/২৫