দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদের রিট
https://parstoday.ir/bn/news/event-i163476-দুদকের_প্রেস_ব্রিফিংয়ের_বৈধতা_চ্যালেঞ্জ_করে_হাইকোর্টে_আসিফ_মাহমুদের_রিট
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রেস ব্রিফিংয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে বক্তব্য দেওয়া এবং তা গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
(last modified 2026-09-28T11:07:30+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৭:০৪ Asia/Dhaka
  • আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
    আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রেস ব্রিফিংয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে বক্তব্য দেওয়া এবং তা গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় এমন প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

আজ (সোমবার) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসিফ মাহমুদের পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা রিটটি দায়ের করেন। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা এ রিটের নম্বর ১৩৮৮৫/২০২৬।

রিটে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) এবং সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা)কে বিবাদী করা হয়েছে।

‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে আপত্তি

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে একজন উপ-পরিচালক জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আসিফ মাহমুদের রিটে দাবি করা হয়েছে, অনুসন্ধানের শুরুতেই কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে বলে ঘোষণা করার আইনগত কর্তৃত্ব দুদকের নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত অনুসন্ধান শেষে প্রাপ্ত ফলাফলের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে; অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়ে এভাবে বক্তব্য দেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন বলে রিটে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আসিফ মাহমুদ।

এরপর ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানোর কথা উল্লেখ করে রিটে বলা হয়েছে, সেটি আমলে না নিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক আরেকটি মিডিয়া ব্রিফিং করে।

ওই ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় ডিসি পদায়ন, সিটি করপোরেশনের টেন্ডার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিদেশে অর্থ পাচারসহ আরও একাধিক অভিযোগের কথা জানায় দুদক।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর মধ্যে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ, প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকা থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলো অনুসন্ধানাধীন অভিযোগ; অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালত বা অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফলাফলে এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার আসিফ মাহমুদের

রিটে আসিফ মাহমুদ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি নিয়ে তিনি দাবি করেছেন, এটি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মন্ত্রণালয়ের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ ছিল। একইভাবে প্রায় ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়ে রিটে বলা হয়েছে, ওই পদোন্নতি কার্যকর হয় ১১ মে ২০২৬ সালে—অর্থাৎ আসিফ মাহমুদের দাবি অনুযায়ী, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর। ফলে ওই সিদ্ধান্তে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

এর আগে আসিফ মাহমুদও প্রকাশ্যে দুদকের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন এবং বিভিন্ন সরকারি আদেশ, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় ও সংশ্লিষ্ট নথি দেখিয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন।  

‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ অভিযোগ

রিটে আরও দাবি করা হয়েছে, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এসব প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগেই এ ধরনের বক্তব্য প্রচার করা ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ সুযোগ তৈরি করছে এবং এতে সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

রিটে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনুসন্ধান বা বিচারাধীন কোনো বিষয়ে এমন প্রেস ব্রিফিং থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া এরই মধ্যে গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে সমগুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

দুদকের বক্তব্য

অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপ বা পক্ষপাতের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছে দুদক। ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, কমিশন কাউকে লক্ষ্য করে কাজ করছে না; বরং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অভিযোগগুলো আইন অনুযায়ী যাচাই করা হচ্ছে।  

দুদকের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং অনুসন্ধানের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  

এখন হাইকোর্টে দায়ের করা রিটে মূল প্রশ্ন হিসেবে উঠে এসেছে—দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলাকালে দুদক কতটা তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে এবং অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে বলে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার আইনগত ভিত্তি আছে কি না। রিটটির পরবর্তী শুনানিতে আদালতের নির্দেশনা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৮