ইয়েমেনের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা বিস্তৃত ও হালনাগাদ করা হচ্ছে: আনসারুল্লাহ নেতা
-
হেজাম আল-আসাদ
পার্সটুডে: ইয়েমেনে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সৌদি আরবের হামলাকে শত্রুপক্ষের অসহায়ত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক দপ্তরের সদস্য হেজাম আল-আসাদ। তিনি সৌদি আরবের অভ্যন্তরে আরও জোরালো হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি হামলার জবাব দিতে ইয়েমেনের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা বিস্তৃত ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে এ খবর জানিয়েছে। হেজাম আল-আসাদ বলেন, ইয়েমেনে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ঘটনা প্রমাণ করে যে, বছরের পর বছর ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরব তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, বাড়িঘর, বাজার, সেতু, স্কুল, হাসপাতাল, মসজিদ ও জানাজার অনুষ্ঠানে বিমান হামলা সৌদি শাসকগোষ্ঠীর আগ্রাসী নীতির প্রকৃত চেহারা প্রকাশ করেছে। সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর সৌদি আরবের পদক্ষেপ অবরোধ আরোপ, দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি এবং ইয়েমেনের অবকাঠামো ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বেসামরিক মানুষের সমাবেশেও হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনের সা’দা প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় সৌদি হামলার কথা উল্লেখ করে আনসারুল্লাহর এই নেতা বলেন, এসব হামলা ইয়েমেনের জনগণকে পিছু হটতে বা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করবে না। বরং নিজেদের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং অবরোধ ভাঙার ব্যাপারে তাদের সংকল্প আরও দৃঢ় করবে।
তিনি বলেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর তালিকা বিস্তৃত এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। ‘পাল্টা উত্তেজনা সৃষ্টির জবাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি’—এই কৌশল অনুসরণ করে সৌদি আরবের অব্যাহত আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবে দেশটির অভ্যন্তরে সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা আরও জোরদার করতে পারে ইয়েমেনের বাহিনী।
হেজাম আল-আসাদের দাবি, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের আগ্রাসনে সৌদি শাসকগোষ্ঠী অপরাধমূলক নীতি অনুসরণ করেছে। বাড়িঘর ও বাজার থেকে শুরু করে সেবাকেন্দ্র এবং ধর্মীয় স্থাপনা পর্যন্ত জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলার সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ভাড়াটে যোদ্ধাদের ব্যর্থতা, সীমান্তবর্তী ও দখলকৃত এলাকায় তাদের ওপর হামলা এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব লক্ষ্যবস্তু বৈধ এবং সংঘাতের অংশ।
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘মার্কিন নির্মিত বোমা দিয়ে যেসব নারী, শিশু ও বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, তাদের অপরাধ কী?’
ইয়েমেনের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সৌদি হামলা অব্যাহত রাখা এবং দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অন্যদেরও সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন আনসারুল্লাহর এই নেতা।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা জোরদার করার সক্ষমতা ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও হামলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
আল-আসাদ আরও বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার বিরোধিতা করার অর্থ অপরাধের জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকা কিংবা শত্রুপক্ষের উত্তেজনা বৃদ্ধির জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ জোরদার করার নীতি পরিত্যাগ করা নয়।
তিনি দাবি করেন, ইয়েমেন বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করতে চায় না। বরং আগ্রাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার মধ্য দিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।
ইয়েমেনে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতারও সমালোচনা করেন হেজাম আল-আসাদ। তাঁর অভিযোগ, কিছু আন্তর্জাতিক পক্ষের অবস্থান নির্ধারণে আর্থিক ও তেল-সংশ্লিষ্ট স্বার্থ প্রভাব ফেলছে।
সবশেষে তিনি বলেন, ইয়েমেনের জনগণ আগ্রাসনের সামনে নতজানু হবে না এবং আত্মসমর্পণও করবে না। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা ইয়েমেনিদের প্রতিরোধের সংকল্প আরও দৃঢ় করবে। নিহতদের রক্ত তাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে না; বরং প্রতিরোধের ইচ্ছাশক্তি আরও বাড়িয়ে দেবে।#
পার্সটুডে/এমএআর/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।