'হিজবুল্লাহ যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল'
নিরাপত্তা-অঞ্চল হিজবুল্লাহ'র শক্তি বাড়াবে ও ফিরবে এর গৌরব: ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞদের হুঁশিয়ারি
-
হতাশ ও ক্ষুব্ধ একদল ইসরায়েলি সেনা
পার্সটুডে: ইহুদিবাদী ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তারা দক্ষিণ লেবাননে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান সামরিক উপস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তথাকথিত "নিরাপত্তা অঞ্চল" লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে শক্তিশালী করতে পারে এবং ইসরায়েলি বাহিনীকে নতুন ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে, শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে ইয়েদিওথ আহরোনথ।
সংবাদপত্রটি জানিয়েছে যে, শীর্ষস্থানীয় কমান্ডাররা এই মোতায়েনকে সামরিক প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে দখলদার সেনাবাহিনী "ক্লান্ত" এবং "চরম জনবল সংকটে ভুগছে"।
"এই নিরাপত্তা অঞ্চল কেবল হিজবুল্লাহকেই শক্তিশালী করবে, এর অতীতের গৌরব পুনরুজ্জীবিত করবে এবং প্রতি বছর রক্তের বিনিময় দাবি করবে। এটি রকেট হামলা প্রতিরোধ করতে পারেনি এবং হিজবুল্লাহর অনুপ্রবেশের হুমকি কেবলমাত্র সামান্যই কমিয়েছে," — ইসরায়েলি সংবাদপত্রটি দখলদার সামরিক কমান্ডারদের বরাত দিয়ে এসব কথা জানিয়েছে।
তবে, ইয়েদিওথ আহরোনথের মতে — ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বিশ্বাস করে যে, "কমপক্ষে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের একটি প্রক্রিয়া শুরু না করে" তারা কথিত নতুন "নিরাপত্তা অঞ্চল" থেকে ফিরতে পারবে না।
ইয়েদিওথ আহরোনথের প্রতিবেদন অনুযায়ী, "এ ধরনের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে," — কমান্ডাররা এ কথা উল্লেখ যোগ করেছেন যে "প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো চাপ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রত্যাহার শুরুর দাবিসহ, ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে পারে, কারণ ইসরায়েল ওয়াশিংটনের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল,"।
নেতানিয়াহু ট্রাম্প২০২৫ সালের ৭ই এপ্রিল ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক বৈঠকের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কথা বলছেন।
হিজবুল্লাহকে যুদ্ধে বাধ্য করা হয়েছিল—এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী
এদিকে, ইসরায়েলি দৈনিকটি জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যে, ২রা মার্চের সাম্প্রতিক যুদ্ধে জড়াতে হিজবুল্লাহকে বাধ্য করা হয়েছিল। কর্মকর্তারা যুক্তি দিয়েছেন যে বরং লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠীটি যুদ্ধে যোগ দিতে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
একজন সিনিয়র ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে: "হিজবুল্লাহ ১৫ মাস ধরে নিজেকে সংযত রেখে অপেক্ষা করেছিল। যখন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে তখন হিজবুল্লাহ নিজস্ব আক্রমণ শুরু করে। সংগঠনটি নিজেকে প্রস্তুত করেছিল এবং ফাইবার-অপটিক ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।"
ইসরায়েলি কর্মকর্তা আরও যোগ করেছেন যে, হিজবুল্লাহ এই সংঘর্ষকে গত বছরের ইসরায়েলি হামলার বহু মাস পর তার অবস্থান পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছিল, ইরানের সরাসরি নির্দেশে কাজ করার পরিবর্তে।
ইয়েদিওথ আহরোনথের প্রতিবেদন অনুযায়ী একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, "হিজবুল্লাহ যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল। এটি ইরানে সম্ভাব্য যুদ্ধকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছিল। আয়াতুল্লাহরা হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ না্াঈম কাসেমকে আদেশ দেয়নি যে তাদের তার সাহায্য প্রয়োজন এবং তার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়া উচিত। বরং, তারা বুঝতে পেরেছিল যে তার পরিস্থিতি জটিল," ।
পার্সটুডে/এমএএইচ/০৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।