হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ইরানকে দেয়া উচিত, নেয়া যেতে পারে সার্ভিস-ফি: নিউইয়র্ক টাইমস
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162492-হরমুজের_নিয়ন্ত্রণ_ইরানকে_দেয়া_উচিত_নেয়া_যেতে_পারে_সার্ভিস_ফি_নিউইয়র্ক_টাইমস
পার্সটুডে: নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেয়া এবং এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য তেহরানকে ফি নেওয়ার সুযোগ দেয়া।
(last modified 2026-08-25T07:02:01+00:00 )
আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১২:২৯ Asia/Dhaka
  • হরমুজ প্রণালি
    হরমুজ প্রণালি

পার্সটুডে: নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেয়া এবং এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য তেহরানকে ফি নেওয়ার সুযোগ দেয়া।

এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচল কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে ইরান ও ওমান আলোচনা করছে। তেহরান জোর দিয়ে বলছে, যুদ্ধের আগে যে ব্যবস্থায় প্রণালিটি পরিচালিত হতো, যুদ্ধের পর সেটি সরাসরি পুনর্বহাল করা হবে না।

সোমবার “Let Iran Control the Strait of Hormuz” তথা 'ইরানকে হরমুজ প্রনালি নিয়ন্ত্রণ করতে দিন' শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত অতিথি নিবন্ধে 'ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ'-এর মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক বলেছেন, জলপথটিকে ঘিরে পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও বাস্তবতাকে ওয়াশিংটনের স্বীকার করা উচিত।

কেলানিক লিখেছেন, “প্রণালিটি পুনরায় খুলে দিতে হবে, এমনকি এর অর্থ যদি হয় যে ইরান এর মধ্য দিয়ে যাতায়াতের ওপর ফি আরোপ করবে।”

তিনি বলেন, হরমুজ দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সক্ষম হয়নি। অন্যদিকে, ইরান দেখিয়েছে যে প্রতিটি জাহাজকে আক্রমণ না করেও তারা সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল সীমিত করতে পারে।

কেলানিকের মতে, অবাধ জাহাজ চলাচল পুনর্বহালের কথিত লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালানো হলে ওয়াশিংটনের সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। বিপরীতে, এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা হলে, যেখানে সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিনিময়ে ইরান অর্থ পাবে, তাতে তেহরান আরও বেশি জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিতে উৎসাহিত হতে পারে।

তিনি লিখেছেন, “নিরাপদ যাতায়াতকে অর্থায়নযোগ্য ব্যবস্থায় পরিণত করলে ইরান যত বেশি সম্ভব জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিতে উৎসাহিত হবে, যাতে তারা আরও বেশি ফি আদায় করতে পারে।”

হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি নেওয়ার বিষয়ে কেলানিকের প্রস্তাবটি ইরানের নিজস্ব অবস্থানের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তেহরান জাহাজের ওপর প্রচলিত অর্থে কোনো কর আরোপ করতে চায় না; বরং নৌ-চলাচল, নিরাপত্তা, উদ্ধার এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের মতো সেবা প্রদানের জন্য সার্ভিস চার্জ নিতে চায়।

এই পার্থক্যটি এর আগে জেপি মরগানও পর্যালোচনা করেছে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা স্মারকে জেপি মরগানের বিশ্লেষক নাতাশা কানেভা, লিউবা সাভিনোভা ও আর্তেম ফাখরুতদিনভ পরীক্ষা করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে “নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা” সংক্রান্ত বাধ্যতামূলক ফি ইরান ও ওমান আইনগতভাবে আরোপ করতে পারে কি না। বিশ্লেষণে শুধু প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করার জন্য আরোপিত ফি এবং নির্দিষ্ট সামুদ্রিক সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত চার্জের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে।

জেপি মরগান ডেনমার্ক ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের ব্যবস্থাকে নজির হিসেবে উল্লেখ করেছে। এসব দেশে পাইলটেজ, নৌ-চলাচলে সহায়তা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জরুরি কার্যক্রমের মতো সেবার জন্য জাহাজের কাছ থেকে ফি নেয়া হয়।

ব্যাংকটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরাসরি যাতায়াত শুল্কের পরিবর্তে যদি এসব অর্থকে সার্ভিস ফি হিসেবে কাঠামোবদ্ধ করা হয় এবং ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়, তাহলে ইরান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে।

বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল পরিচালনার জন্য ইরান ও ওমান একটি নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বর্তমানে বিদ্যমান উত্তর ও দক্ষিণের রুটকে একত্র করে একটি দ্বিমুখী একক করিডর তৈরি করা হবে এবং পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর ইরান তদারকি করবে।

ইরান একই সঙ্গে এই ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেছে যে যুদ্ধের পর সাগর-পথটি আগের ব্যবস্থায় সরাসরি ফিরে যাবে। তেহরান জোর দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতের যেকোনো ব্যবস্থায় তার নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ প্রতিফলিত হতে হবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইরানের কর্তৃত্ব ও যাতায়াতের জন্য অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা চালু করা অবশেষে জাহাজ চলাচলে অব্যাহত বিধিনিষেধের চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বিশ্বব্যাপী তেলের মজুতের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

কেলানিক বলেছেন, বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমতে থাকলে এবং এর ফলে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলে হরমুজ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার অর্থনৈতিক পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।

তিনি আরও পরামর্শ দিয়েছেন যে, সাগর-পথটি পরিচালনার জন্য ইরান ও ওমানের সহযোগিতা বৃহত্তর আঞ্চলিক ব্যবস্থার একটি অংশ হতে পারে।

তিনি লিখেছেন, “ইরান ইতোমধ্যে প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে।” তাঁর মতে, যৌথ তত্ত্বাবধান বা যৌথ ব্যবস্থাপনা আঞ্চলিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করতে পারে।

জেপি মরগানের মূল্যায়ন এই প্রস্তাবে আরও একটি আর্থিক ও আইনগত মাত্রা যুক্ত করেছে। এতে বোঝা যায়, হরমুজে ইরানের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক কেবল সামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কীভাবে সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ করা হবে, সেই বাস্তব ব্যবস্থাপনাগত বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান যদি এসব অর্থকে শুধু প্রণালি অতিক্রমের শুল্ক হিসেবে না নিয়ে নৌ-চলাচল ও নিরাপত্তা সেবার বিনিময়ে অর্থপ্রদান হিসেবে কাঠামোবদ্ধ করে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় তার পরিকল্পনাকে সমর্থন করার মতো আইনি ভিত্তি থাকতে পারে।

তাই ইরানের এই অবস্থান—জাহাজগুলোকে শুধু প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অধিকারের জন্য নয়, বরং প্রদত্ত সেবার জন্য অর্থ দিতে হবে যা ভবিষ্যতে গড়ে উঠতে থাকা ব্যবস্থার একটি কেন্দ্রীয় বিষয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে বলা হয়েছে, সাগর-পথটিকে ঘিরে নতুন বাস্তবতাকে ওয়াশিংটনের স্বীকার করা উচিত। এমন একটি ব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়, যা বাস্তবে টেকসই করা অসম্ভব হবে।

কেলানিক লিখেছেন, “এর কোনোটিই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আদর্শ নয়। কিন্তু আমরা যত দ্রুত এই নতুন বাস্তবতাকে মেনে নেব, ভোক্তা, বিশ্ব অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য তা ততই ভালো হবে।” #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন